ফরিদপুরে ক্ষমতারধর ব্যক্তিদের হাতে লাঞ্চিত অসহায় পরিবার, মামলা তুলতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির হুমকি

ফরিদপুরে ক্ষমতারধর ব্যক্তিদের হাতে লাঞ্চিত অসহায় পরিবার, মামলা তুলতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির হুমকি
ছবি : সোহেল মাহমুদ ( দৈনিক আজকাল বাংলা)

সোহেল মাহমুদ : ফরিদপুর জেলার, সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়ন এর চর চাদপুর ইন্তাজ খার ডাঙ্গী নামক স্থানে, ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদের তান্ডবে লণ্ডভণ্ড অসহায় একটি পরিবার। 

ভুক্তভোগী পরিবার এর সদস্য জনাব আছিয়া আক্তার এবং লাভলী বেগম দৈনিক আজকাল বাংলাকে বলেন প্রতিবেশী জব্বার খানের  সাথে তাদের পূর্ব সময় থেকেই পারিবারিক এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলছে, তারই ধারাবাহিকতায়  গতো ২৪/০৭/২০২১ ইং তারিখ বেলা ১২ টার দিকে প্রতিবেশী ক্ষমতাধর ব্যাক্তিগন (জব্বার খান, রফিক খান, কবির খান, গনি খান, চাইনা বেগম, নিলি বেগম, দিপালি বেগম, রওশনা বেগম) এরা সহকারে আরো অজ্ঞাত ১০-১২ জন লোক নিয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে ছ্যানদা, বাশের লাঠি, কাঠ, বাশের মুগুর সহ আরো দেশীও অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের (লাভলী) দের বাড়িতে বেআইনি ভাবে প্রবেশ করে।

স্থানীয় সূত্র ধরে এবং লাভলী বেগম ও আছিয়ার তথ্যের উপর জানা যায়, ঐ সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথমে ঐ বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বাড়িতে অবস্থানরত সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে থাকে, তারা যখন এই বিষয়ে প্রতিবাদ করে তখনই আব্দুল জব্বার খানের হুকুমে সন্ত্রাস বাহিনী লাভলীদের উপর ঝাপিয়ে পরে এবং সন্ত্রাস বাহিনীর হাতে থাকা দেশীও অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত, বাড়ি ভাংচুর এবং সাথে থাকা লক্ষ টাকার সর্নলাংকার ও নগদ টাকা লুণ্ঠন করা হয়।

পরবর্তীতে যখন চারপাশে লোকজন জরো হয় তখন সন্ত্রাস বাহিনী পালিয়ে যায়, এসময় সন্ত্রাসী হামলায় (লাভলী বেগম, গুনাই বিবি, লিটন খান, সেলিম খান, আছিয়া আক্তার, ময়না আক্তার) গুরুতর ভাবে আহত হলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেয়া হয়।

যেহেতু ভুক্তভোগী পরিবার সন্ত্রাসী বাহিনী থেকে অনেক নিন্মবিত্তের তাই উক্ত বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের আচরণ ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চাইলে পারতেন বিষয়টির সঠিক সুরাহা করতে, কিন্তু সেটি তারা করেননি বরং উল্টো তাদের জমি ছেরে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে। 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে ৯৯৯ ফোন করে সাহায্য চান, পরবর্তীতে ঘটনা স্থলে সদরপুর থানা থেকে পুলিশ আসেন, পুলিশ এসে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবার থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন যার পরিপেক্ষিতে পরবর্তীতে কার্যক্রম পরিচালনা হওয়ার কথা থাকলেও বিপক্ষের ক্ষমতাসীন লোকদের অর্থ এবং আভিজাত্যের কাছা সেটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। 

লাভলী দৈনিক আজকাল বাংলাকে বলেন বিপক্ষের লোকজন ক্ষমতাবান তাই তারা টাকা পয়সা দিয়ে পুলিশের কাজ বন্ধ রেখেছেন, অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যারা আছে তারাও নাকি বিপক্ষে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনীর পক্ষে সাফাই গাইছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (চেয়ারম্যান) বিষয়টি সমাধানের জন্য যে আঙ্গিকার করেছিলেন সেটিতেও তিনি ব্যার্থ। 

লাভলী বেগম আরো বলেন বিপক্ষের লোকজন নাকি টাকা পয়সা দিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যারা আছেন তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে, যার পরিপেক্ষিতে তারা ছার পেয়ে যাচ্ছে, লাভলীর মতে তারাই অন্যায় করেছে আবার তারাই পরবর্তীতে বিচারকের ভূমিকা পালন করছে, যার জন্য ভুক্তভোগী পরিবার তাদের জমি ফেরত পাচ্ছেনা এবং উক্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কোনো বিচারও পাচ্ছেনা, অন্যদিকে তারা পুলিশের কাছে যে মামলার অভিযোগ করেছিল সেটিও তুলে নেয়ার জন্য হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। 

উক্ত বিষয়ে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায় পুলিশ ঘটনার তদন্ত করেন, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং ২ পক্ষের সম্মতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যারা আছে তাদেরকে বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করতে বলা হয়, যদি তারা ব্যার্থ হয় তখনই উক্ত বিষয়ে পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রদান করা হবে, কেননা বিষয়টি এতটা জটিল নয়, যদি স্বাভাবিক নিয়মে সমাধান হয় তাহলে অযথা ঝামেলা করে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করাটাই শ্রেয়। 

অন্যদিকে লাভলী বেগম তাদের সাথে যেটা ঘটেছে সেটার বিচার না পেয়ে দারে দারে ঘুরছেন, তার মতে এই অসভ্য সমাজে দূর্বল ব্যাক্তিদের কোনো মূল্য নেই, যাদের ক্ষমতা তারাই সকল ক্ষমতার অধিকারী, তিনি ফরিদপুর প্রশাসন, পুলিশ এবং সুশীল সমাজের কাছে সাহায্য চেয়েছেন যেন তারা সঠিক বিচার পান।