বাউফলের চেয়ারম্যানসহ ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা

বাউফলের চেয়ারম্যানসহ ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল,পটুয়াখালী।।২৮ জুন,সোমবার।।পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ৮ম শ্রেনির ছাত্রী বিয়েকরে আলাচনায় আসা কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারসহ ৬জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টায় মো. আল ইমরান নামের ১ব্যক্তি পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল মেজিষ্ট্রেট মো. জামাল হোসেনের ২য় আদালত এ মামলা করেন।

আল ইমরান উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের সুলতান হাওলাদারের ছেলে ও প্রেমিক যুবক রমজান হাওলাদারের বড় ভাই।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জেলা পিবিআই প্রধানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাদির আইনজীবী এড. মো. আল আমিন জানান, অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। প্রথমত একজন অপ্রাপ্ত বয়সী কিশোরী নাজমিন আক্তার ওরফে নাছিমনকে (১৪)   জোর করে বিয়ে করেছেন, কিশোরীর প্রেমিকা রমজান হাওলাদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চেয়ারম্যান তালাক নামা সৃষ্টি করতে বাধ্য হয়।
মামলায় চেয়ারম্যানসহ তার ৫ সহযোগী এবং নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও কাজী মাওলানা মো. আইয়ুবকে আসামী করা হয়েছে।
আদালত কিশোরী নাজমিন আক্তার ওরফে নাছিমনের (১৪) জন্ম সনদ ও রমজান হাওলাদারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ পত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রথম স্ত্রী আছেন। সেই সংসারে তাদের ১ছেলে ও ১মেয়ে। ছেলে বিবাহিত।
উল্লখ্য : কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে রমজান হাওলাদারের সঙ্গে একই ইনিয়নের চুনারপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে কনকদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রণির ছাত্রী নাজমিন আক্তার ওরফে নছিমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এ সম্পর্ক কোন ভাবেই মেনে নিতে না পাড়ায় নছিমনের বাবা নজরুল ইসলাম রমজানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের কাছে নালিশ করেন। শেষে বৈঠকে ডাকলে এক পর্যায় ওই ছাত্রীকে নিজেই বিয়ে করেন। সালিসে এমন বিচার পেয়ে ছাত্রীর সঙ্গে পালানো যুবক নজরুল ইসলাম (১৯) অচেতন হয়ে শুক্রবার রাতে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
এ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে দেশ জুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। এরপর পরেরদিন শনিবার ওই ছাত্রী চেয়ারম্যানকে তালাক দিয়ে চলে যায়।