বাউফলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা, স্থবির ইউপি'র স্বাভাবিক কার্যক্রম

বাউফলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা, স্থবির ইউপি'র স্বাভাবিক কার্যক্রম
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল, পটুয়াখালী।। ২৪ এপ্রিল,শনিবার।।পটুয়াখালীর বাউফলে একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর  বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় ওয়ারেন্ট হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।এদিক লকডাউনের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ওই চেয়ারম্যান হাজিরও হতে পারছেন না। এনিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

জানা গেছে, উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল গ্রামের মৃত.হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আনিচুর রহমানের ঘরে গত ১৬ মার্চ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির ঘটনায় নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকারসহ প্রায় নয় লাখ টাকার মালামাল খোঁয়া যায়। গত ২৬ মার্চ স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার এবং সন্দেহভাজন চোর একই বাড়ির ফয়সাল হোসেন মিঠুর বাবা আঃ মান্নানসহ মিঠুর অন্যান্য অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা সালিশ বৈঠক করে মিঠুনকে চোর হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে মালামাল ফেরৎ দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
যথা সময়ে মালামাল ফেরৎ না পাওয়ায় মিঠুর চাচি হামিদা বেগমের সাথে আনিচুর রহমানের এক পর্যায় কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে মিঠুনের চাচি মোসা. হামিদা বেগম চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু,তার ভাই এবং ছেলেসহ অন্যান্যরা তার কাছে চাঁদা দাবি করেছে মর্মে অভিযোগ এনে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
 একইভাবে মিঠুন এবং তার এক আত্মীয় বাদি হয়ে গত ৪ এপ্রিল পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলী আদালতে চেয়ারম্যানসহ আট জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলা নং যথাক্রমে সিআর-১৪১/২১এবং সিআর-১৪২/২১।আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো.আমিনুল ইসলাম ১৪১ নং মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন এবং ১৪২ নং মামলাটি তদন্তের জন্য পটুয়াখালী র‍্যাব-৮ এর কাছে দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে সূর্য্যমনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। চেয়ারম্যানের নিকটাত্মীয়রা জানান, লকডাউনের কারণে চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা আদালতে হাজিরা দিতে পারছেন না। 
এদিকে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মোসা. হামিদা বেগমের করা চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে বাউফল থানা পুলিশ তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিয়েছেন। ওই রিপোর্টে মোসা. হামিদা বেগেমের অভিযোগ মিথ্যা বলে জানানো হয়। জানা গেছে, মোসা. হামিদা বেগেম আদালতে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলার স্বাক্ষী হিসেবেও রয়েছেন। 
সূর্য্যমনি ইউনিয়ন পরষিদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু প্রতিনিধিকে বলেন,তার বিরিুদ্ধে এক কুচক্রমহল সুনাম নষ্ট করার জন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতি মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মোসা. হামিদা বেগেমের করা চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে বাউফল থানা পুলিশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছেন। ওই রিপোর্টে মোসা. হামিদা বেগেমের অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়। তিনি আশা করেন কোর্টের মামলাও মিথ্যা প্রমানিত হবে।
 সূর্য্যমনি ইউনিয়ন পরষিদেরব৪,৫,ও ৬ নং সংরক্ষতি মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য মোসা. শাহিনুর বেগম জানান, চুরি যাওয়া মালামাল ফেরৎ না দিয়ে উল্টো চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে মামলা করায় আমরা হতভম্ব। এখন চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় সামনে পবিত্র ঈদ জনগণ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।