বাউফলে ডায়রিয়া প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঔষধ ও স্যালাইন সংকট

বাউফলে ডায়রিয়া প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঔষধ ও স্যালাইন সংকট
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল, পটুয়াখালী।।১২ এপ্রিল-২১, সোমবার।। পটুয়াখালীর বাউফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঔষধ ও স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে।ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত নার্স ও সিকিৎসকদের।বেড সংকলন না হওয়ায় বেশীর ভাগ রোগীকে হাসপাতলের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ২৪ ঘটায় বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ২৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। গত সপ্তাহে ১৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। মার্চ মাসে  রোগী ছিল ৩২১জন।

আজ সোমবার বেলা ১১ টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড়। সকাল ১১টা পর্যন্ত  রোগী ভর্তি হয়েছে ১২ জন। প্রতিদিন গড়ে ২০/২৫জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ডায়রিয়া রোগীদের জন্য  বেড রয়েছে ১২টি। বর্তমানে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থান সংকুলন না হওয়ায় অনেক রোগীকে বারান্দায় শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ময়লা দুর্গন্ধ ও স্যাতস্যাতে পরিবেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের স্যালাইন লাগিয়ে পাশে বসে সুস্থতার জন্য সময় পাড় করছেন স্বজনরা। অস্বাস্থকর পরিবেশ ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার  কারনে অতিষ্ট রোগী ও স্বজনরা।
উপজেলা থেকে বিছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন থেকে আসা ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত মেঝেতে থেকে চিকিৎসাধীন মারুফা নামের এক রোগীর মা সপ্না বেগম জানান রবিবার থেকে বাচ্চার ডায়রিয়া ও বমি দেখা দেয়। বাউফল হাসপাতলে আনার পর এখন একটু কমছে কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোন বিছানাপত্র দেওয়া হয়নি।ঔষধ ও স্যালাইন বাহির থেকে কিনে আনতে হয়।
ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স আকলিমা বেগম ও তার সহকর্মী শিখা বলেন,ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে  বেড রয়েছে ১২টি। বেশী রোগী আক্রান্ত হওয়ার ফলে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে । ঔষধ ও স্যালইন পর্যাপ্ত আছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার ডায়রিয়া রোগী বেশী হওয়ায় ঔষধ ও স্যালাইনের পরিমাণ কম। বর্তমানে ঔষধ ও স্যালাইনের সংকট রয়েছে। যে স্যালাইন আছে তা ১০ থেকে ১২জনকে চিকিৎসা দিতে পারবো। শিশুরা বেশী ডায়রিয়ায়  আক্রান্ত হচ্ছে  ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন,গরমের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এবং বাহিরের খাবার খাওয়ার ফলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে । ডায়রিয়া ও বমি থেকে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ হতে পারে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস বেড়েছে। বাউফল ৫০শয্যা হাসপাতালে ১ হাজার ব্যাগ স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। তাও প্রায় শেষের পথে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশের বিষয়
 বলেন, জনবল না থাকায় প্রতিনিয়তই সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি।