বাউফলে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ অর্ধশত আহত ২৫টি মটর সাইকেল ভাংচুর  আটক-৫

বাউফলে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ অর্ধশত আহত ২৫টি মটর সাইকেল ভাংচুর  আটক-৫
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান, বাউফল,পটুয়ায়াখালী।।২৬ মার্চ, শুক্রবার।।বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী কর্মীর সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষে কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। ২০-২৫টি মটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভার্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৩৩ জনকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

স্থনীয় সূত্রে জানা গেছে, চশমা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম মৃধার নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকালে  ঝাউতলা খেয়া ঘাট থেকে প্রায় দেড় শতাধিক মটর সাইকেল নিয়ে শো-ডাউন করে ধুলিয়া কলেজিয়েট স্কুলের সামনে দিয়ে  হোসনাবাদ খেয়া ঘাট হয়ে নৌকা মার্কার প্রার্থীর মু. হুমায়ুন কবিরের বাড়ির সামনে ধুলিয়া লঞ্চ ঘাট যাওয়ার পথে ভাষা সৈনিক মরহুম সৈয়দ আশ্রাফ আলীর বাড়ির সামনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর ছেলে অনিক, ভাই হেমায়েত, ভাইর ছেলে হারুন দেয়ান ও মিন্টিুর নেতৃত্বে ৮-১০ জন কর্মীর সমর্থক পিছন থেকে শো-ডাউনের উপর হামলা করে। এসময় নৌকা মার্কার প্রার্থী হুমায়ুন কবির পাশে একটি মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করছিলেন। এসময় তিনি ডাক চিৎকার শুনে মসজিদ থেকে বাইরে নেমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষ হয়। ঘন্টা ব্যাপী চলে (সন্ধ্যা পর্যন্ত) এ সংর্ঘষ। এতে নৌকা মার্কার  চেয়ারম্যান প্রার্থী মু. হুমায়ুন কবির তার ছেলে তানিশ মাহমুদ (২২) ভাই হেমায়েত (৪০) ভাইর ছেলে  হারুন(৫৩), মিন্টু (৪৯) ভূট্টো (৪০) চশমা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলামের ভাই মাসুদ মৃধা (৩৫) পরশ (২৬), আব্বাস খন্দকার (৩৮) লিটু হাওলাদার (২৬) রিয়াজ সরদার (৩৫)সহ দুই পক্ষের কমপক্ষে  অর্ধশত কর্মী সমর্থক আহত হয়। এসময় ২০-২৫টি মটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে পলাশ ও মিন্টু দেয়ানকে বরিশাল এবং মনির হোসেন, ভূট্টো ও হারুনকে বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নৌকার সমর্থকরা ঘটনাস্থল থেকে চশমা মার্কার কর্মী আহম্মেদ আলী (২৭) রিপন(২৫) আবু তাহের (২৬)সহ ৫ আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। 

চশমা মার্কার প্রার্থী নজরুল ইসলাম মৃধা এ হামলার জন্য নৌকা মার্কার প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের দায়ি করে বলেন,‘ আমরা শান্তিপূর্ণ শো-ডাউন করে যাওয়ার পথে নৌকা মার্কা চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। আমার কর্মী সমর্থকদের মারধর করে ২০-২৫টি মটর সাইকেল  ভাংচুর করে এবং ৮-১০টি মটর সাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

নৌকা মর্কার প্রার্থী মু. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করছিলাম।  তখন বাইরে আমার ছেলে ও ভাইসহ কয়েকজন কর্মী- সমর্থক অপেক্ষা করছিলেন। এসময়  শো-ডাউন থেকে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে চাইলে আমার উপরও হামলা চালানো হয়।’

এ ঘটনায়  ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নৌকা মার্কার প্রার্থী হুমায়ুন কবির বাদি হয়ে চশমা মার্কার প্রার্থী নজরুল ইসলাম মৃধা, তার ভাই বিএনপি নেতা আবদুল জব্বার, তারেকসহ ৩৩ জনকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা করেছেন।

বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,‘ এ ঘটনায় ৩৩ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। আমার যতটুকু মনে পরে ১০টি মটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে।’

অপর দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নে নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিন হাওলাদার ও তার কর্মী -সমর্থকরা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক (৭২) ও ছাত্রলীগ নেতা পাবেলকে  (২৪) পিটিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে চয়োম্যান প্রার্থী শাহিন হাওলাদার এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন।