বাউফলে পৌরসভা সড়কে আবর্জনার ভাগাড় !

বাউফলে পৌরসভা সড়কে আবর্জনার ভাগাড় !
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র বাজার রোডের পশ্চিম দিকের (কালিবাড়ি) সড়কের পাশে অবাদে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। সড়কের পাশে এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সড়কের দুপাশ জুড়ে স্তুপ তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে বায়ুদূষণ,দুর্গন্ধে পথচারী এই পথে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাউফল পৌরসভা। বাউফল পৌরসভার আয়োতন ৬.৫ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ত্রিশ হাজার। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীয় কোন ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। নিদিষ্ট কোন ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গা না থাকায় পৌর পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থান ও বসতবাড়ি থেকে সদর বাজার রোডের পশ্চিম পাশে (কালিবাড়ী রোড) সড়কের দুপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্তুুপ করছে।এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী,শ্রমজীবী, চাকুরীজীবী ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশার অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে থাকে।
পথচারীরা জানান,বাজার সংলগ্ন কালিবাড়ী এলাকায় সড়কটির দুপাশে বছরের পর বছর পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন হোটেল ,বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত বর্জ্য,পচা-বাসি খাবার,হাসপাতাল, ক্লিনিকের পরিত্যক্ত বিভিন্ন জিনিসপত্র পৌরসভার নির্দিষ্ট গাড়িযোগে এনে ফেলছে।এতে একদিকে বাতাসে যেমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে,তেমনি জলাশয়ে পড়ে সেগুলো বিষাক্ত হয়ে হুমকির কারন হয়ে উঠেছে। ময়লা ফেলায় ময়লার স্তূপে পরিনত হয়েছে। 
সরেজমিনে দেখা যায়,পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র বাজার (কালিবাড়ি) রোডের পশ্চিম দিকের জনবহুল সড়কের দুপাশে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।তার উত্তর পাশেই বাউফল মডেল থানা।দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে থানা ভবনেও।পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম ভাবে বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব।
এছাড়াও পৌর বাজার,গার্লস স্কুল,পৌরভবন,ভূমি অফিস ও সাবরেজিস্ট্রি অফিস,পুরাতন হাসপাতাল সড়ক ,টি,এন্ড,টি সড়ক ও থানা ভবনে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়কেও যত্রযত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। 
অপরদিকে,পৌরসভার উন্নয়নে প্রতি বছর ২৫ কোটি টাকার অধিক বাজেট বরাদ্ধ হয়। ৮০শতাংশের বেশী কর আদায় হয়। পৌরবাসীর কাছ থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়। পৌর বাজারসহ কোন ওয়ার্ডে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন না থাকায় পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 
আবাসিক এলাকা ও সড়ক দখল করে কেনো ময়লা-আর্বজনা ফেলা হয় এমন প্রশ্নে জবাবে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. চাঁন মিয়া বলেন,পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা ওখানে ময়লা ফেলি।
বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল প্রতিনিধিকে বলেন,পৌরসভার নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় এবং ঐ সড়ক দিয়ে বেশী লোক যাতায়াত না করায় পৌরশহরের বাজারের কাছে  কালিবাড়ি সড়ক রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়।নির্দিষ্ট স্থানে ডাম্পিং স্টেশন তৈরির জন্য অন্যত্র জমি খোজা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয় চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
যত্রযত্র ময়লা ফেলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে মেয়র বলেন,পৌরবাসীর সকল নাগরিকের সচেতন হতে হবে। বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা আনার জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট ভ্যানগাড়ী ও লোক নিয়োগ করা আছে। 
এব্যপারে বাউফল জনস্বাস্ব্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমানের কাছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি এবিষয় সে কিছুই যানেন না। তার পূর্বে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
জনস্বাস্ব্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ( সাবেক) প্রকৌশলী বাউফল আলী আশ্রাব বলেন, জেলার মধ্যে কলাপাড়া ও বাউফল এই দুইটি উপজেলার পৌরসভার জন্য ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চাওয়া হয়েছিল কিন্তূ কেহই দিতে পারে নাই। পটুয়াখালী পৌরসভার কর্তৃপক্ষ  জায়গা দেওয়ায় সেখানে কাজ চলছে। সরকারের নির্দিষ্ট স্থানে ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করে সে ময়লা থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। পৌর কর্তৃপক্ষ জায়গা দিলে ডাম্পিং স্টেশন করে দেওয়া হবে।