বাউফলে পুলিশের উপর হামলা, দেড়শ জনের বিরুদ্ধে মামলা-গ্রেফতার ৮

‘আমরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছি, ভিডিও নেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখান'

বাউফলে পুলিশের উপর হামলা, দেড়শ জনের বিরুদ্ধে মামলা-গ্রেফতার ৮
ছবি: সংগৃহীত

মো. ফোরকান।।বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।পটুয়াখালীর বাউফলে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় নৌকা মার্কার দেড়শতাধিক কর্মী সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

ওই মামলায় ২৫ জনকে নামীয় আসামী ও বাকিদের অজ্ঞাত হিসাবে আসামী করা হয়েছে। বাউফল থানা স্ট্যান্ডবাই-১ এর  মহিপুর থানার  পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে এ মামলা করেন।  (মামলা নম্বর ৫ তারিখ ৬/৯/২২, ধারা ১৪৩,১৮৬,৩৫৩,৩৩২,৩৩৩,৩০৭ ও ৪২৭) মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় এমামলাটি রজু করা হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে উপজেলার নাজিরপুর তাঁতেরকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিকাল ৫টার দিকে ছোট ডালিমা  নাজিরপুর হাইস্কুল কেন্দ্রের ফলফলা ঘোষনার পর ওই কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইনের গাড়ি বাউফল শহরে  উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথে দেড়-দুইশ নৌকার কর্মী সমর্থকরা ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি অবরুদ্ধ করেন।  খবর পেয়ে  মহিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে  বাউফল থানা স্ট্যান্ডবাই -১ এর একটি ও পুলিশ বহনকারী একটি রিকুইজিশনের পিকআপ গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাজিস্ট্রেটেকে উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার সময় উত্তেজিত নৌকার কর্মী সমর্থকরা পুলিশ বহনকারী পিকাআপ গাড়িতে  হামলা করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে  দুমকি থানার এএসআই দিপক, কনেস্টবল মোঃ রাহাত ও মহিপুর থানার কনেস্টবল আবু সালেহ মোহাম্মদ সজিব  গুরুতর আহত হন। এসময় হামলাকারীরা পুলিশের স্ট্যান্ডবাই-১ গাড়ির পিছনের গ্লাস ভাংচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে নিরাপদে নিয়ে আসেন। 

আহত ওই তিন পুলিশ সদস্যকে  বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হামলার সময় এক পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছি, ভিডিও নেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখান।’ 

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ  ইউনুস (৩৫), জহিরুল(৪২), জাহিদুল(১৯), আনিচুর রহমান (৪২), সজিব হাওলাদার (২২), মিজান মাহমুদ(১৯) ও আনো মোল্লা (৪৮) নামে ৮ নৌকার কর্মীকে আটক করেন এবং বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদেরকে পটুয়াখালী কোর্টে প্রেরণ করেন। 

অপর দিকে একই দিন সন্ধ্যায় বাউফল প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জিএম ফোরাকানের বড় ডালিমা গ্রামস্থ বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে নৌকার কর্মী ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন বেপারীর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন কর্মী সমর্থকরা। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্রসহ দুইটি টিভি, দুইটি ফ্রিজ ও একটি সুকেজ ভাংচুর করে। হামলার হাত থেকে বাধ যায়নি লবনের বাটি, খাবার প্লেট, হাড়িপাতিল।  হামলাকারী  যাওয়ার সময় নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১০ ভড়ি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন বলেন, 'শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ছোটডালিমা নাজিরপুর হাইস্কুল কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। কোন কারণ ছাড়াই উত্তেজিত নৌকার কর্মী সমর্থকরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ী অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের উপর হামলা করা হয়।  হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সাংবাদিকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’