’’বাউফলে যৌতুকের দাবীতে পাষন্ড স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন’'

মো.ফোরকান, বাউফল,পটুয়ায়াখালী।। ০৫ মার্চ,বুধবার।।পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৯নং নাজিরপুর ইউনিয়নের তাঁতেরকাঠী গ্রামের মোঃ খবির তালুকদারের মেয়ে মোসাঃ রিমা আক্তার (২৫), বাউফল ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের মৃত-আদম আলী গাজীর ছেলে মোঃ মাইনুল ইসলামের সাথে ২০১৩ সালে সামাজিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের কিছুদিন পরে রিমা জানতে পারে তার স্বামী মাইনুল ইসলাম পূর্বে সুখি নামের আর একটি মেয়েকে বিবাহ করেছেন।

সুখির বাড়ি চড়বিশ্বাস ইউনিয়নের চড়আগস্তা গ্রামে। সুখি বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকাপয়সা এনে দিত, না দিতে পারলেই সুখিকে মারধর করত একপর্যায় সুখি রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যায়। এই সুযোগে মাইনুল রিমাকে বিবাহ করে। ব্যপারটি যখন জানাজানি হয়ে যায় তখন তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এবং রিমাকেও একই ভাবে মারধর করে। হোন্ডা কেনার কথা বলে রিমার বাবার কাছ থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা এনে দেয়,সেই টাকা দিয়ে ১ম স্ত্রী সুখিকে ডিভোর্স দেয়। ব্যবসার কথা বলে আরও ৩০ হাজার টাকা এনে দেয়। এমনকি রিমার বাবার বাড়ি থেকে যে সোনা গহনা দিয়েছিল তাও বন্ধক রাখে। এর কিছুদিন পরে রিমার কোল জুড়ে আসে একটি কন্যা সন্তান। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সমস্ত দুঃখ কষ্ট মুখ বুঝে সহ্য করে রিমা তার সংসার করতে থাকে। কিন্তু দুখের বিষয় হলো মাইনুলের অত্যাচার, নিপীড়ন চলতেই থাকে। মাইনুলের বিলবিলাস বাজারে একটি ঔষধের দোকান রয়েছে।তিনি পলি-পাইলস এরও চিকিৎসা করেন। নাম বলতে অনিচ্ছুক মাইনুলের বাড়ির পাশের এক সন্মানি ব্যাক্তি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন মাইনুল একটা খারাপ লোক বৌ মারা ওর একটা পেশা প্রায় সময় আমরা বৌকে মারধর করতে দেখি। ডাক চিৎকার শুনে ছুটে আসলে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। এবং ও এমনই একটা ছেলে ওর মাকেও মারধর করত। ও মানুষ না ও একটা পশু। বিবাহ করা তো ওর একটা ব্যবসা একটা করে আর একটা ছাড়ে। পারিবারিকসূত্রে আরও জানা যায় রিমাকে এ রকম প্রায়ই মারধর করত এবং বাবার বাড়ি চলে যেত দুই তিন মাস থাকার পরে সালিশ মিমাংশা করে আবার নিয়ে আসতো। কিন্তু নির্যাতনের স্টিম রোলার থেমে যায়নি চলতে থাকে প্রতিনিয়ত। দুই বছর পূর্বে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাঠি দিয়ে রিমার হাতে আঘাত করলে ডান হাত ভেঙ্গে যায়। বাবা মা খবর পেয়ে ছুটে আসলে তাদেরকে মাইনুল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।রিমার বাবা খবির তালুকদার বলেন কি বলবো বাবা লজ্জার কথা প্রতিবাদ করাতে ঐ পশুটা আমার গায়েও হাত দিয়েছে। তারপর রিমাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ১৫ দিন থাকার পরে আমরা তাকে নিয়ে আসি। ৪/৫ মাস পরে নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মোঃ ইব্রাহিম ফারুকের স্মরনাপন্ন হলে সালিশ মিমাংশা করে দেয়। তাতেও তার নির্যাতন বন্ধ হয়নি।কিছুদিন ভাল থাকার পরে আবার শুরু হয় তার নির্যাতন। কথায় কথায় মারধর করে।

গত ২৭ এপ্রিল ২০২১ইং সকালে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বাবার বাড়ি থেকে রিমাকে দুইলক্ষ টাকা এনে দিতে বলে তা নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় একপর্যায় রিমাকে লাঠি দিয়ে স্পর্শ কাতর জায়গায় পেটাতে থাকে। ডাকচিৎকার শুনে তাকে স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করে। পরে বাউফল সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়। এ ব্যাপারে রিমার মামা নাজিরপুর ইউপি সদস্য মো: ফকু আকন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন ৮ বছর হলো রিমাকে বিবাহ দিয়েছি।আট বছরে একাধিক বার রিমাকে এভাবে মেরেছে।কয়েকবার শালিস মিমাংশাও করা হয়েছে।কিন্তু মাইনুলের কোনো পরিবর্তন হয় নাই। দুদিন পরপর এভাবেই রিমাকে মারধর করে। রিমা আমাদের সবাইকে ক্ষত চিহ্ন দেখিয়েছে ওভাবে মানুষ মানুষকে পিটায় না। আমরা ওর কাছে আর মেয়ে দিবো না। প্রয়োজন হলে আমরা আইনের আশ্রয় নেবো। রিমা বলেন আমি আর ওর ভাত খাবো না প্রয়োজনে আমি কর্ম করে খাবো তবু ও আমি ওর বাড়িতে যাবো না। আবার যদি আমি যাই তাহলে ও আমাকে মেরে ফেলবে। কে দিবে আমার জীবনের নিরাপত্তা।