বাউফলে সচ্ছল ব্যক্তিরা পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

বাউফলে সচ্ছল ব্যক্তিরা পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল,পটুয়াখালী।। ০৯ আগস্ট,সোমবার।। পটুয়াখালীর বাউফলে টাকার বিনিময় মেডিকেল সনদ নিয়ে  সরকারের সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতা সুস্থ্য-সচ্ছল ব্যক্তিরা পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা ।

 এমন কয়েকজন ভূয়া প্রতিবন্ধীর সন্ধান মিলেছে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ভরিপাশা গ্রামে। সদ্য সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খলিলুর রহমান টাকার বিনিময়ে এসব সুস্থ্য ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নিয়ে আাসার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মো.কাদের মাস্টারের ছেলে মো. মিজানুর রহমান একজন সুস্থ্য সবল মানুষ। পেশায় তিনি একজন কৃষক। তার রয়েছে একাধিক মাছের ঘের ও কৃষি খামার। তিনি পাচ্ছেন অসচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা।

একই গ্রামের মো. চান্দু হাওলাদারের মেয়ে মোসা. নুরজাহান বেগম ও মো. চাঁন মিয়া ফরাজির ছেলে আ. হক ফরাজি নাম রয়েছে প্রতিবন্ধি ভাতা তালিকায়।তাদের কেউ প্রতিবন্ধি না। আ.হক ফরাজি কিটনাশক ব্যবসায়ী অপরদিকে নুরজাহান গৃহিনী। শুধু তারাইনয় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধি ভাতা ভোগ করছেন ওই গ্রামের মো. আফসের মল্লিকের মেয়ে মোসা.নিলুফা বেগম ও জোনাবালি খাঁনের মেয়ে সাদেজা বেগম। 

স্থানীয়রা জানান, তাঁরা কেউ প্রতিবন্ধি না, সবাই সুস্থ্য সবল মানুষ,স্থানীয় খলিল মেম্বর টাকা খেয়ে তাদেরকে প্রতিবন্ধির তালিকায় নাম দিয়েছেন।এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত প্রতিবন্ধিরা। 
সুস্থ্য হয়েও কেনো প্রতিবন্ধি ভাতা নেন এমন প্রশ্নের সদত্তোর দিতে পারেনি এসব সুস্থ্য প্রতিবন্ধিরা। 

অন্য এক সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. খলিলুর রহমান বাউফল হাসপাতালের বিশেষ একটা চক্রকে ম্যানেজ করে  জালিয়াতির মাধ্যমে সুস্থ্য মানুষদের প্রতিবন্ধি মেডিকেল সনদ সংগ্রহ করেন। পরে সমাজসেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধি পরিচয়পত্র নিয়ে তাদেরকে প্রতিবন্ধি ভাতার তালিকায় নিয়ে আসেন।এর বিনিময়ে খলিল মেম্বর প্রতি নামে হাতিয়ে নেয় ৫- ৭হাজার করে টাকা।এ জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছে বাউফল হাসপাতালের বড় একটি চক্র।

এলাকাবাসী জানান, খলিল  মেম্বর থাকাকালিন সময় কেশবপুর ইউনিয়নের প্রতিবন্ধি,বয়স্ক ও বিধবাসহ বিভিন্ন ভাতা তালিকায় অনিয়ম করে ছিলেন। হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। অনেকের নামে বিভিন্ন  ভাতার কার্ড করিয়ে নিজেই উত্তোলন করেছেন টাকা। যা ভাতাভোগীরা জানেনই না। এছাড়া কেশবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে সরকারের বরাদ্ধকৃত উন্নয়নকাজে করেছেন ব্যাপক অনিয়ম। তাঁর অন্যতম সহেযাগী হিসাবে ছিলেন বাউফল হাসপাতালের হারবাল সহকারি মো.সবুজ।
এবিষয়ে হাসপাতালের হারবাল সহকারি সবুজ বলেন,এসব জালিয়াতির সাথে আমি জড়িত না,খলিল মেম্বর ডাক্তাদের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী মেডিকেল সনদ নিয়েছে,কিভাবে নিয়েছে তা আমি জানি না।

ইউপি সদস্য মো. খলিলুর রহমান বলেন,আমার কাছে প্রতিবন্ধি ভাতার জন্য আসলে আমি সুপারিশ করে হাসপাতালে পাঠাই। ডাক্তাররা তাদেরকে প্রতিবন্ধী সনদ দিলে তারা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে প্রতিবন্ধি ভাতা পাচ্ছেন। সুস্থ্য ব্যক্তিদের কোন স্বার্থে প্রতিবন্ধি হিসাবে সুপারিশ করলেন এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি ইউপি সদস্য খলিল।
এব্যাপারে নবনির্বাচিত ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সালহ উদ্দিন পিকু বলেন,আমি নতুন চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যানের সময় এমন ঘটনা ঘটেছে।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাক্তার প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন,তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 বাউফল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিবন্ধী মেডিকেল সনদ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিবন্ধি যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে তালিকা আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়, আমরা শুধু এটা বাস্তবায়ন করি। যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রতিবন্ধী ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল মোতালেব হাওলাদার বলেন,এ বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।