বাউফলে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম  দুই মাসেই কোটির টাকার সড়কে ধস

বাউফলে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম  দুই মাসেই কোটির টাকার সড়কে ধস
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।০৭ সেপ্টেম্বর, মংগলবার।। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার  বাউফল-নওমালা সড়ক হতে হোসনাবাদ শের-ই-বাংলা  সড়ক সংযোগ ভায়া হাচান হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত ১.৮ কিলোমিটার নির্মিত কার্পেটিং সড়কের ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের  (এলজিইডি) বাস্তবায়নে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটির নির্মাণ কাজে শেষের দুই মাসের মধ্যে সড়কের একাধিক স্থানে ধস নেমেছে। শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করা ও  নির্মাণ কাজে  নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১.৮ কিলোমিটার ওই সড়কটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আবহ্বান করেন উপজেলা এলজিইডি।এতে পটুয়াখালীর মেসার্স নাজমুস শাহাদাত নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ওই কাজের তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো.শহিদুল ইসলাম। 
 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ সড়কের নির্মাণ কাজে  সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শিডিউলে বালু ভরাট কথার থাকলেও অবৈধভাবে বোমা ড্রেজার দিয়ে স্থানীয় পুকুর থেকে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাট করেন। ঠিক মত কাটা হয়নি বেড। ব্যবহার করা হয়েছে নিম্ন মানের ইট-খোয়া। কার্পেটিং করার সময় ৬০% বিটুমিন ও ৪০% ক্রসিন দেওয়ার কথা থাকলেও নামে মাত্র বিটুমিন ও ক্রসিন দিয়ে কার্পেটিং করা হয়। ব্যবহার করা হয় নিম্ন মানের পাথর।   
এতে করে নির্মাণ কাজের দুই মাসের মাথায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ধসে পড়েছে। দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। উঠে গেছে সড়কের কার্পেটিং। 
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিন (৫০) ও মো. শফিকুল ইসলাম (৪০) বলেন,‘ যেমন খুশি তেমন ভাবে সড়ক নির্মাণ করেছেন ঠিকাদার। নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েও কোন সুরহা হয়নি। 
পটুয়াখালীর মেসার্স নাজমুস শাহাদাত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে মালিক মো. শাহাদাতের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,‘যদি ভেঙে থাকে তাহলে সংস্কার করে দেওয়া হবে। 
নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম নির্মাণকৃত সড়কের ধসের কথা স্বাীকার করে বলেন,‘ ঠিকাদারের সাথে  কথা হয়েছে সড়কটি নির্মাণ করে দেওয়া হবে । 
এবিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সুলতান ইসলাম বলেন,‘ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জামানত জব্দ রয়েছে। সড়কটি সংস্কার করার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হবে।