বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে এখনো আছি - ওমর গণি চৌধুরী 

বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে এখনো আছি - ওমর গণি চৌধুরী 
ছবিঃ সংগৃহীত
এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সবক'টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন  নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ২৩ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে ৮৪তম কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে 
এ ঘোষণা দেন ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।
ইসি সচিবের এমন ঘোষণায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ১৩ ইউপিতে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। তৎপর হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নিজেদেরকে প্রার্থী হিসাবে জানান দিতে বিভিন্নভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন সম্ভাব্যরা। সেসাথে দলের হাইকমান্ডদের দৃষ্টি আকর্ষণে এলাকার অলিগলিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙিয়ে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। কেউ করছে উঠান বৈঠক কেউবা করছে জনসংযোগ। আবার আগাম ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে থেকে শুরু করে সর্বত্র বিস্তার করছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি, যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তবে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন তাই দলের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করলে দল থেকে বহিষ্কার হতে হবে সেটা মাথায় রেখে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।
এদিকে আবার দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লবিং-তদবিরে। দলের মনোনয়ন পেতে ছুটছেন জেলা- উপজেলা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় সাংসদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বাসভবনে। সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার সর্বত্রে বইছে প্রার্থীদের আগাম নির্বাচনী হাওয়া।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে উপজেলার ১৪নং দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের নৌকার মাঝি হতে চান দঃ রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিঃ সহ- সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো: ওমর গণি চৌধুরী কাঞ্চন। এ লক্ষ্যে তিনি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এছাড়াও তিনি ক্লিন ইমেজখ্যাত হওয়ায় এলাকার সর্বজনপ্রিয় ও রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপির অত্যান্ত আস্তাভাজন হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক দায়িত্বশীল প্রবীণ নেতা।
জানা যায়, মোঃ ওমরগণি চৌধুরী কাঞ্চন ১৯৫৫ সালের ১২ নভেম্বর উত্তর রাঙ্গুনিয়ার, মুন্সীবাড়ী গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আহমেদ কবির ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দানবীর। ওমরগণি চৌধুরী ও তার পরিবার শিক্ষা প্রসারের জন্য ৩নং রাজানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামাইরহাট ভিএড লাইব্রেরি, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দাতা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে আওয়মী রাজনীতির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ওমরগণি চৌধুরী ও তার পরিবারের সবাই আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন। তার বড় ভাই এ্যাডঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী ছিলেন রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত ভিপি। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে প্রবীণ আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনিও চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ২ বারের সাধারণ সম্পাদক এবং ২ বারের সভাপতি ছিলেন। মেজ ভাই মরহুম বখতেয়ার হোসেন চৌধুরী ছিলেন একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা। সেজ ভাই মোঃ ওসমান গণি চৌধুরী আমৃত্যু দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। বিএনপি জামায়াতের শাসনামলে যখন দলের বড় বড় নেতারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন এবং আওয়ামী রাজনীতির সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছিল। দলের সেই কঠিন দুঃসময়ে বৃহত্তর রাজানগর কৃষক লীগের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ওমর গণি চৌধুরী। বিএনপি জামায়াতের নির্যাতন নিপীড়নে ছেড়েছেন নিজ ব্যবসা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। পাশাপাশি বিএনপি জামায়াত সরকার  পতন আন্দোলনে রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন ওমর গণি চৌধুরী। দলের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন প্রচারবিমুখ এ মানুষটি। কখনো নিজের বা পরিবারের জন্য দলের কাছে কোন পদ পদবী চান নি। তার নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে করোনা মোকাবেলায় মাস্ক বিতরণ, শীর্তাতদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বর্ষা মৌসুমে গ্রামের কাঁচা রাস্তায় ইট দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলাসহ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা থেকে শুরু করে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। এককথায় এলাকার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে তার ভূমিকা অপরিসীম৷ তাই তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। দঃ রাজানগর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসেবে উপহার দিতে চান। তাই সকলের সমর্থন ও দোয়া প্রত্যাশা করেন।
ওমর গণি চৌধুরী কাঞ্চন বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। দলের আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রয়োজনে সব সময় পাশে ছায়ার মত থেকেছি। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হিসেবে জানান দেওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় ইচ্ছা পোষণ করেছি। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দল আমাকে মনোনয়ন দেবেন এটাই প্রত্যাশা করছি। দল আমাকে নৌকা মার্কা প্রতীক দিলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব এবং দঃ রাজানগর ইউনিয়নকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ