বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শোষিত মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে মতাদর্শিক লড়াই জোরদার করতে হবে

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শোষিত মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে মতাদর্শিক লড়াই জোরদার করতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

মো. নজরুল ইসলাম।।মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।। ১৯ আগস্ট, বৃহস্পতিবার।। আমরা কারা বাঙারী ,পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমর আমার ঠিকানা। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের ঠাই নাই। প্রতি বছর ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোকের দিনে এ রকম অনেক কথাই শোনা যায়।স্বাধীনতার মহান স্থাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতি ফাউন্ডেশেন মানিকগঞ্জ ও বারসিকের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী শিরোনামে এক অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ উর্মিলা রায়ের সভাপতিত্বে স্মৃতি ফাউন্ডেশেন মানিকগঞ্জ এর সদস্য সচিব  ও বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়ের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর  গৃহীত উদ্যোগ ও জীবন দর্শনের উপর বক্তব্য উপস্থাপন করেন একাত্তর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ,সমাজ সংগঠক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব এডভোকেট দিপক কুমার ঘোষ। উল্লেখ্য আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সমাজ সেবক ও জাসদ নেতা কমরেড ইকবাল খান। প্রগতি লেখক সংঘের জেলা সাধারন সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম বারসিক কর্মকতা মো.শাহিনুর রহমান শাহিন,সত্ত রঞ্জন সাহা, কৃষক শহীদ বিশ্বাস, হরিরামপুর পদ্মা পাড়ের পাঠশালার পরিচালক মীর নাদীম  প্রমুখ।
 দিপক কৃমার ঘোষ তার বক্তব্যে বলেন,বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল সাধারন মানুষের কল্যান এর জন্য ।তিনি বুঝতে পেরেছিলে যে যুদ্ধ পরবর্তী দেশকে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ করতে হলে সকল শ্রেনী পেশা ও ধর্মের মানুষকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।তাই তিনি অসম্প্রাদায়িক চেতনা ধারন করে  কৃষক, তাতী, জেলে ,কামার, কুমার সব ধরনের পেশাজিবী মানুষের কাঁধে কাঁধ রেখেই বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন কৃষি ও কৃষক বান্ধব মানুষ।

তিনি আরো বলেন,বঙ্গব›ন্ধুর  ভাবনায় ছিল দেশের  প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে , বস্ত্র পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে । তিনি জানতেন এদেশের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র প্রান্তিক  শ্রমজীবি তাই তিনি বাইরের দেশ থেকে সাহায্য এনে সাময়িক অভাব দূর করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয় মনে করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি সচল করতে গণমুখী সমবায় এর ডাক দেন। তিনি মনে ভাবতেন যদি কৃষক শ্রমিক,তাতী জেলে ,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সমাবায় গঠন করে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পেশা ভিত্তিক কাজ করতে পারে তাহলে শিল্পপতি ,পুজিবাদি ,ধনিকতন্ত্রের দৌরাত্ব থেকে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী রক্ষা পাবে।সমাবায়  করে চাষাবাদ ও ব্যবসা করতে করতে পারলে নিজস্ব পুঁজি তৈরি হবে এবং শোষক শ্রেণীর  মধ্যে  নিজেদের মালিকানা তৈরি হবে ।শোষিত প্রান্তিক শ্রেনীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।তাছাড়া তিনি কৃষকদের ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা মওকুফ করেন ও  খাস জমির বন্দোবস্ত করে ভূমিহীন কৃষকদের ফসল চাষাবাদের সাথে যুক্ত করেন।কৃষকদের সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও কৃষিতে ভর্তূকীর ব্যবস্থা করেন।