বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে জিয়া ও তার পরিবার-তথ্যমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে জিয়া ও তার পরিবার-তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো।।বিএনপির পেট্রোলবোমা সন্ত্রাসীরা আবার মাঠে নেমেছে। তাদের প্রতিরোধ করতে হবে এবং তাড়িয়ে দিতে হবে।
শনিবার ১৩ আগস্ট দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এড: নুরুচ্ছফা তালুকদার পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, খবরের কাগজে দেখলাম বিএনপি মহাসচিব বলেছেন সরকার না কি বিদেশীদের চাপে কোনো সমাবেশে বাধা দিচ্ছে না। অথচ  আমাদের নেত্রী ক'দিন আগে বলেছেন, আমরা বিএনপির কোন সমাবেশে বাধা দেব না এবং দেইওনি। কিন্তু গতকাল তারা নিজেরাই মারামারি করে নিজেদের সমাবেশ পন্ড করে দিয়েছে। সমাবেশ ডাকলে যারা নিজেরাই চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি, মারামারি করে সমাবেশ পন্ড করে, সেখানে বাধা দেওয়ার দরকার নেই। ভবিষ্যতেও দেখবেন যখনই বিএনপি সমাবেশ ডাকবে তখনই নিজেরা সমাবেশ পন্ড করে দেবে। তবে যদি দেখি পেট্রোলবামা বাহিনীরা সমাবেশের নামে মাঠে নেমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। তখন কিন্তু আমরা বসে থাকব না, প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
'তেলের দাম বাড়াতে বিএনপি এখন বর্ষাকালের পুঁটি আর মলা মাছের মতো একটু লাফাচ্ছে, যার কোনো প্রয়োজন নেই' উল্লেখ করে সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, 'ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার পর সমগ্র পৃথিবীতে তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। ৬০ ডলারের তেল ১৭০ ডলারে গিয়েছে। এখন সেটি ১৩৮-৪০ ডলার। দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। আমাদের দেশে দ্বিগুণ নয়, সব মিলিয়ে ৩৮-৪০ শতাংশ বাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের সমান করেছি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীলভাবে কমলে আবার দাম সমন্বয় করা হবে।
অতীতের দিকে তাকিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, '২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বিএনপির সময়ে সারাদেশের ৫’শ জায়গায় বোমা ফাটানো হয়েছিল। আগামী ১৭ আগস্ট সমগ্র বাংলাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির নৈরাজ্য এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সমাবেশ হবে। রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেবে।'
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, 'বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবার। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সংরক্ষিত প্রসিডিংয়ে আসামী এবং সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে সবিস্তারে বলেছেন কখন কোথায় কিভাবে জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করেছিল, তিনি কিভাবে ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিল। এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খোন্দকার মোস্তাক তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের অন্যতম কুশীলব বলেই জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী প্রধান করে। সেই জিয়া বন্দুকের নল উঁচিয়ে ক্ষমতা দখল করে, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দল গঠন করে এবং সেই ধারাবাহিকতাই বিএনপি বয়ে চলেছে।'
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. শামসুল আলম তালুকদার ও যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, পৌর মেয়র আলহাজ্ব শাহাজাহান শিকদার, কাসেম চিসতি, এমরুল করিম রাশেদ, ইদ্রিস আজগর, আকতার হোসেন খাঁন, গিয়াস উদ্দিন খান স্বপন, শফিকুল ইসলাম, শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু, আবু তাহের, মোরশেদ তালুকদার, রাসেল রাসু প্রমুখ।