বিত্তবানদের দখলে ঠাকুরগাঁওয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

বিত্তবানদের দখলে ঠাকুরগাঁওয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
ছবিঃ সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার।। ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুরে ভূমিহীনদের জন্য সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর টাকা বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বকুয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো: আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। বিনামূল্যে এসব ঘর দেয়ার কথা থাকলেও ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ভূমিহীনদের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের চেয়ারম্যানের একটি অডিও ভয়েস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূমিহীনদের জন্য সরকারের ৩২টি ঘরের মধ্যে ২৬টি ঘরেই তালা বন্ধ রয়েছেন। তারা কেউ ঘরগুলোতে থাকেন না। যাদের ঘর দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই বিত্তবান। নিজস্ব জায়গায় জমি, বাড়ি, গাড়ি সবই রয়েছে তাদের। আর যারা প্রকৃত দরিদ্র ভূমিহীন তারা কেউ ঘর পাননি।

জানা যায়, ওই উপজেলার ৩নং বকুয়া ইউনিয়নে গোয়ালদিঘী গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রথম ধাপে ২৬  দ্বিতীয় ধাপে ০৬টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩২টি ঘরের মধ্যে ২৬টি ঘরেই দেওয়া হয়েছে স্বচ্ছল, ব্যক্তিদের। আর  প্রকৃত ভূমিহীনদের কাছে  টাকা নিয়েও দেওয়া হচ্ছে না ঘর  ঘর না পেয়ে প্রতিদিন চেয়ারম্যানের বাড়ি, ভুমি অফিস  ইউএনও’র অফিসে ধর্না দিচ্ছেন ভুক্তভুগীরা।

ভুক্তভুগী আনোয়ার, মানিক সহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান আবু তাহের  তার লোক আমাদের কাছে প্রতি ঘরের জন্য ৭০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেন। কিন্তু আজও আমরা ঘর বুঝে পেলাম না। ঋন ও গরু-ছাগল বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। হয় ঘর দেন না হলে আমাদের টাকা ফেরৎ দেন।

অপরদিকে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে ঘর পেয়েছেন জাকির হোসেন, এসতাব আলী, মমতাজ, আলতাফ উদ্দীন, আনোয়ার, ইসমাইল, মন্টু আলতাফ, আব্বাস উদ্দীন  এসরাইলসহ আরো অনেকেই। খোজ নিয়ে জানা যায় এদের সকলেরেই নিজস্ব পাকা বাড়ি, ট্রাক্ট গাড়ি, মোটরসাইকেল, চাষাবাদের জমি-জায়গা আছে।

এ ব্যাপারে তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রতিটি ঘরের জন্য চেয়ারম্যানকে ৯০ হাজার থেকে  এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছি। বিনা পয়সায় তো ঘর নেয়নি। মমতাজ বেগম বলেন, আমার ৫টা ছেলে সন্তান। ছয়’টা ঘরের জন্য চেয়ারম্যানকে ৭ লক্ষ টাকা দিয়েছি বলে তো ঘর পেয়েছি।

তবে এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের সাথে কথা বললে তিনি জানান, যা হয়েছে হরিপুর উপজেলার আগের ইউএনও মহোদয় আর ভূমি কর্মকর্তা (এসিলেন্ট) জানেন। তাদের মাধ্যমে সব হয়েছে বলে তিনি এড়িয়ে যান।

হরিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাকিবুজ্জামান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের বিরুদ্ধে অনেক আগ থেকেই ঘর দেওয়ার কথা বলে অর্থ লেনদেনের কথা শুনেছি। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা মিটিং উপস্থাপন করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ঘর অনিয়মের ব্যাপারে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বহ্নি শিখা আশা আশ্রয়ণের ঘর বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি।

এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো: মাহাবুবর রহমান জানান, ঘর অনিয়মের অভিযোগ শুনেছি। ইতিমধ্যে যে ঘরগুলো রেজিস্ট্রি দেওয়া বাকি রয়েছে সে গুলো স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ডিসি।