বিনা নোটিশে অর্ধশত বছরের পুরনো বসতবাড়ি উচ্ছেদ

চোখের সামনে নিমিষেই ধ্বংস স্তুপে পরিণত মাথা গুজার ঠাঁই 

বিনা নোটিশে অর্ধশত বছরের পুরনো বসতবাড়ি উচ্ছেদ
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার।। কক্সবাজার বিমান বন্দরের পাশে  নুনিয়াছড়ায় খাস জায়গায় ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছে এমন কিছু বাংলাদেশী পরিবারকে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

নারী, পুরুষ ও শিশুদের আটক রেখে চালানো হয় ধ্বংস লীলা।
চোখের সামনে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয় তাদের সাজানো গুছানো ঘরবাড়ী, সুখের সংসার। 
বিনা নোটিশে অসংখ্য বসত বাড়ি উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় কয়েক কোটি  টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উচ্ছেদের শিকার পরিবারের দাবী। তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন পার করছে।
এর প্রতিকার চেয়েছেন উচ্ছেদের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা। 
রবিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের নুনিয়াছড়া এলাকায় সরকারী খাস জমিতে এ ঘটনা ঘটেছে। 
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের পক্ষে আলমাছ খাতুন বলেন, তারা সরকারী খাসজমিতে বংশ পরম্পরায় গত ৫০/৬০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে।
রবিবার দুপুরে কক্সবাজার বিমান বন্দরের লোকজন, পিডি, পুলিশ, আনসার সদস্য বুলডোজার নিয়ে এসে আকস্মিক আমাদের বাপ-দাদার আমলে গড়া স্থায়ী বসত বাড়ি উচ্ছেদ করে।
উচ্ছেদের ঘটনায় মনোয়ারা বেগম বলেন, আকস্মিকভাবে রবিবার দুপুরে বিমান বন্দরের লোকজনের উপস্থিতিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সহযোগীতায় বুলডোজার দিয়ে আমাদের বসত বাড়ি ভাঙতে শুরু করে। আমরা এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নারী, পুরুষ ও শিশুদের আটকে রাখে এবং আমাদের মারধর করে। আমাদের কোন আকুতি মিনতি শোনেননি তারা। 
বুলডোজার দিয়ে ঘরের মালামাল ভাংচুর ও নিমিষেই ধ্বংস স্তুপে পরিণত করা হয় মাথা গুজার ঠাঁই টুকু।
বাসিন্দা পাখি বেগম বলেন, আমাদের ঘরের আসবাবপত্র, টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার কোন কিছুই সরানোর সুযোগ না দিয়ে একে একে আমাদের পাকা, আধা-পাকা, কাচা  ঘরগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। 
তিনি আরো বলেন, কেন আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে,  কার নির্দেশে উচ্ছে করেছে এব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।  আমাদের কাছে কোন নোটিশ আসেনি। এমনকি উচ্ছেদেরও কোন নোটিশ আমরা পাইনি। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। 
এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হোসাইন বাহাদুর বলেন, এতো নিষ্ঠুর ভাবে মানুষকে বাস্তুহারা করতে দেখিনি।
 যাদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে আমি জন্মের পর থেকে দেখে আসছি খাস জমিতে বংশপরম্পরায়  এইসব বসত বাড়িতে বসবাস করে আসছে।
তিনি বলেন, নুনিয়া ছড়াবাসী আজ অবহেলিত। সরকারের সব বাহিনীর নজর এখন নুনিয়াছড়ার দিকে,কিন্তু কেন?
নুনিয়া ছড়াবাসীর আর্তনাত-মা বোনদের কান্নার চিৎকার,তাদের চোখের পানির মূল্য কে দিবে?
এস কিছুর প্রতিবাদ করার কেউ কি নেই।
এ ব্যাপারে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।