ব্রেইন স্ট্রোকে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ব্রেইন স্ট্রোকে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
জবি সংবাদদাতা।। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এম.এ ১ম সেমিস্টার (২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ, ১২ তম ব্যাচ) এর মেধাবী শিক্ষার্থী অংকন বিশ্বাস ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেছেন।
গতকাল রবিবার রাত ১১টায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অংকন বিশ্বাস মাস্টার্স ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ছিলেন। অত্যন্ত মেধাবী এই শিক্ষার্থীর গত ২৪ এপ্রিল হুট করেই তার একসাথে ব্রেইন স্ট্রোক এবং হৃদপিন্ডের ধমনীতে ব্লকের সৃষ্টি হয়ে হার্ট অ্যাটাক ঘটে। তখন থেকেই সে আজগর আলী হাসপাতালের আই.সি.ইউ তে ছিল। পরবর্তীতে বিএসএমএমইউ স্থানান্তর করা হয়েছিল। হঠাৎ করেই অক্সিজেন ঠিক মতো নিতে পারছিলো না যার কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিস্তেজ হওয়া শুরু করেছিলো। শুরু থেকেই তার অবস্থা ভীষণ সংকটাপন্ন । তাকে আই.সি.ইউ তে পুরোপুরি লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ মমিন উদ্দীন বলেন, অংকন বিশ্বাস ব্রেইন স্ট্রোকে মারা যাওয়ায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অংকন বিশ্বাস অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বার পেয়ে ১ ম স্থান অধিকার করেছিল। এছাড়াও সে ভাল বিতার্কিক ছিল আন্তঃব্যাচ, আন্তঃবিভাগ, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে একাধিকবার অংশগ্রহণ করে সে বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানিত করেছে। তাঁর এ অকাল মৃত্যু বিভাগের জন্য এক অপুরণীয় ক্ষতি।
এ সময় তিনি বিভাগের পক্ষ থেকে অংকন বিশ্বাসের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তার মৃত্যুতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
অংকন বিশ্বাসের এক সহপাঠী সৃতিচারণ করে বলেন, 
ওর সাথে পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ১ম বর্ষ থেকেই।
আমার মনে হয় একজন আইকনিক শিক্ষার্থীর সকল গুণই ছিলো তার। অত্যন্ত মেধাবী ইংরেজী ডিপার্টমেন্টের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। অসাধারণ বিতার্কিক (জাতীয় বিতার্কিক, টেলিভিশন সহ বিভিন্ন আন্তবিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টার ডিপার্টমেন্টের সেরা বিতার্কিক হওয়ার গৌরব অর্জন)
নান্দনিক নৃত্য, গান, আবৃতি সহ অন্যান্য দক্ষতাও ওর আয়ত্বে ছিলো। সুন্দর ভঙ্গিতে মানুষের সাথে কথা বলতো, মিশতো, এককথায় ব্যক্তিত্ববান একজন মেয়ে ছিলো।