বরিশালে চরমোনাই পীরের নাম ভাঙিয়ে চোরা জলিলের অপকর্ম।দৈনিক আজকাল বাংলা।।

বরিশালে চরমোনাই পীরের নাম ভাঙিয়ে চোরা জলিলের অপকর্ম।দৈনিক আজকাল বাংলা।।
ছবিঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নাম তার চোরা জলিল। এই এক নামে সবাই তাকে চিনে। বরিশাল নগরীর এই কুখ্যাত লোক বসবাস করে ব্যপ্টিষ্ট মিশন রোড এলাকায়।

২০/২২টি চুরি মামলার আসামী এই জলিল ওরফে চোরা জলিল নগরীর চাঁদমারী, ব্যপ্টিষ্ট মিশন রোড, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিছনের এলাকায় নানা অপরাধের অভয়ারন্য গড়ে তুলেছে।

দিনে দিনে প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে চোরা জলিলের অপরাধ অপকর্মের ফিরিস্তিও বেড়েই চলছে ব্যাপক হারে। এখন আর চোরা জলিল শুধু চুরি ছিনতাই ও মাদক বাণিজ্যর সাথেই সীমাবদ্ধ নেই। সে এখন বরিশাল নগরীর এক মস্তবড় চাঁদাবাজ বনে গিয়েছে। তাকে চাঁদা দিতে অপরগতা প্রকাশ করায় অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা লাঠে উঠছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনেকে চোরা জলিল আতঙ্কে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

চোরা জলিলের চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না মাথার গাম পায়ে ফেলিয়ে রুটি রুজির যোগান দেয়া গরীব রিকশা চালকরাও। চোরা জলিলের হাতে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হচ্ছে চাঁদমারী এলাকার রিক্সা ও অটোচালকরা।

তাদের মাসিক ও দৈনিক ভিত্তিতে তাকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। অন্যথায় চোরা জলিল ও তার বাহিনীর হাতে মার খেতে হচ্ছে এসব সাধারণ রিকশা চালক ও দিন মজুরদের।এছাড়াও চাঁদমারী এলাকায় কাঁচামাল, সবজি, চটপটি-ফুচকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও জলিল প্রতিদিন কিংবা মাসিক চাঁদা তুলছে।

জানা গেছে, বরিশাল নগরীর চাঁদমারী এলাকায় এক সময়ে চায়ের দোকান ছিল এই চোরা জলিলের। পরে কিছুদিন ফুচকা চটপটিও বিক্রি করেছে সে। তবে এসবের আড়ালে চোরা জলিল বিভিন্ন ছিচকে চুরির সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয়দের হাতে অসংখ্যবার ধরা পরে মারধরের শিকার হয়। একাধিকবার পুলিশের হাতেও আটক হয়েছে সে।

নগরীর এই চিহ্নিত চোর জলিল ওরফে চোরা জলিল স্থানীয় মানিক নামের এক আলীগ নেতার শেল্টারে ও আশ্রয় প্রশয়ে দিনে দিনে বেসামাল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

একটি চোরাই গ্যাং গঠন করে চোরা জলিল কৌশলে চাঁদাবাজি চুরি ছিনতাই সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া চোরা জলিল বেশকিছুদিন ধরে চরমোনাই পীরের নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনকে ধোঁকা দিয়ে পথ চলছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। চোরা জলিল প্রকাশ্যে বলে বেড়ায় আমি চরমোনাই শ্রমিক আন্দোলনের নেতা, কেউ আমার কিছু করতে পারবে না।

একাধিক ভুক্তভোগী এ প্রতিবেদককে জানায়, চোরা জলিলের কথামত চাঁদা না দিলে আমাদের মারধরের শিকার হতে হয়। আমদের কি দুর্ভাগ্য একটা চিহ্নিত চোরকে চাঁদা দিচ্ছি সেই চোরা আবার নাকি চরমোনাইর পীরের মুরিদ।

বরিশাল নগরীর চাঁদমারী ব্যপ্টিষ্ট মিশন এলাকার একাধিক বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতি রাতেই আমাদের এসব এলাকায় ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটছে। আমাদের সন্দেহ চোরা জলিল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এসব চুরির সাথে জড়িত। এমনকি আমরা এই চুরি ও চোরা জলিল আতঙ্কে ঠিকমত ঘুমাতে পারছি না। এব্যাপারে চোরা জলিলের প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলে সে ফোন রিসিভ করেনি।