বিশ্ব অর্থনীতি, ডলার এবং আমাদের বাংলাদেশ

সম্মানিত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা দেশ সেবায় এগিয়ে আছেন, এখন আপনাদের উপরেই ভর করে চলছে বাংলাদেশ। আপনাদের আত্মীয় স্বজন যারা দেশে আছেন প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একজন করে লোক আপনাদের কাছে নেয়ার চেস্টা করেন। এইটা হবে নগদ আয়! 

বিশ্ব অর্থনীতি, ডলার এবং আমাদের  বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনা মহামারি, বৈশ্বিক আগ্রাসী অর্থনীতি, ভোগবাদী চিন্তাভাবনা, ইত্যাদি সহ আরো অনেক কারনে বিশ্ব বানিজ্যে একটা ঝড় চলমান। এই ঝড় থেকে কারো বাঁচার সুযোগ নেই। একটু হলেও ঝড়ের বাতাস গায়ে লাগবেই। 

ইতিমধ্যে সারাবিশ্বের অন্যতম বিনিময় মাধ্যম ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, এটা যে শুধু আমাদের দেশেই তা কিন্তু নয়, সারা বিশ্বেই এই একই অবস্থা। যার দরুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব দেশগুলো কম বেশি পদক্ষেপ গ্রহন করছে। 

অবশ্য এই ডলার সিন্ডিকেট কালোবাজারিরা এই সুযোগে বেশ কিছু ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডলার জমা করছেন। যেটা ডলার ক্রাইসিস এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়ক।  

সারাবিশ্বে চলমান এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় এবং মোকাবেলায় আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকেই এগিয়ে আসতে হবে। জানতে হবে আমাদের বাঁচতে হলে কি কি করা উচিত এবং কি করা উচিত হবে না। হয়তো ২/৩ বছর এই ক্রাইসিস থাকতে পারে। আমাদের সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই দূর্যোগ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সহায়ক হবে। 

-১। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।
২। বিলাসবহুল পন্য ব্যবহার ও বিনিময় কমাতে হবে
-৩। নিজস্ব প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে
৪।  অনাবাদি জমি চাষাবাদ করতে হবে
৫।  আবাদি জমিতে  ফলন বৃদ্ধির চেস্টা করতে হবে
৬।  রপ্তানি পণ্য সমূহের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে
৭। তেলের দাম বাড়বে, গ্যাসের দাম বাড়বে, কিছু সময়ের জন্যে তেল গ্যাসে সরকারি ভর্তুকি কমাতে হবে
৮। সরকারের এবং জনগনের উভয়ের অপ্রয়োজনীয় সকল ব্যয় কমাতে হবে। 
৯। দেশীয় পন্যের মূল্য বেশি হলেও তা ক্রয় করতে হবে, বিদেশি সকল পণ্য বর্জন করতে হবে। (আগে যারা ইন্ডিয়ান থ্রিপিস বা পাঞ্জাবি পড়তেন তাদের দেশীয় সুতি কাপড়ের কাপড় পরিধান-উদাহারণ) 
১০।  অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন সহ সকল তেল জাতীয় পদার্থের ব্যবহার কমাতে হবে। 

১১।  সরকারের পক্ষ থেকে দূর্নীতি এবং দূর্নীতিবাজ প্রতিরোধে শক্ত ভূমিকা গ্রহন করতে হবে। 

১২।  কোন ভাবেই দেশীয় অর্থ পাচার হতে দেয়া যাবে না। দেশের টাকা দেশেই থাকুক তা নিশ্চিত করতে হবে। 

১৩। জাতীয় আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করতে হবে।

১৪। এই দুর্যোগকালীন সময়ে কোন প্রকার রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে দেয়া যাবে না।

১৫। সকল প্রকার সন্ত্রাস কঠোর ভাবে দমন করতে হবে। 

১৬।  দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ দেশের প্রতি মমত্ববোধ, দেশপ্রেম দেখানোর এটাই সঠিক সময়। সকলকে এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে প্রত্যেককে নিজ নিজ যায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। 

১৭।  সম্মানিত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা দেশ সেবায় এগিয়ে আছেন, এখন আপনাদের উপরেই ভর করে চলছে বাংলাদেশ। আপনাদের আত্মীয় স্বজন যারা দেশে আছেন প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একজন করে লোক আপনাদের কাছে নেয়ার চেস্টা করেন। এইটা হবে নগদ আয়! 

১৮। সরকারের উচিত হবে যারা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বিদেশ যাচ্ছে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। সেই সাথে বিভিন্ন হাইকমিশন এ ডিপ্লোম্যাটস যারা আছেন তাদের সতর্ক করা এবং হয়রানি বন্ধ করা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো শক্তিশালী করা, নতুন নতুন শ্রম বাজার সৃষ্টি সহ যথাযথ বহির্গমণ নিশ্চিত করা।

১৮। গার্মেন্টস বাংলাদেশের অন্যতম চালিকাশক্তি, এর নতুন বাজার তৈরি এবং পুরাতন বাজারকে আরো উন্নত সার্ভিস দিয়ে ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। 

সকল প্রকার ধর্মীয়, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের সোনার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, বিশ্ব দরবারে আমাদের অবস্থানকে সুদৃর ও মজবুত করতে, আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে আসুন সকলে মিলে এক সাথে অংগিকারবদ্ধ হই।

আমরা দূর্নীতি করবো না, প্রতিহিংসা পরায়ণ হবো না, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে যাবো, দেশের সেবায় এগিয়ে আসবো।