বসন্তের স্পর্শে সরব জাফলং, শতাধিক গাড়িসহ পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

বসন্তের স্পর্শে সরব জাফলং, শতাধিক গাড়িসহ পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি।। শনিবার, ১৩ মার্চ।। কোভিড-১৯ মহামারী করোনাভাইরাস বিপর্যয় কাটিয়ে উঠলেও রয়েছে তার রেশ। এরইমধ্যে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠছে দেশের বিভিন্ন পর্যটনখাত। চলতি শীত মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন পর্যটন স্পটে লক্ষ্য করা যাচ্ছে পর্যটকদের আগমন চোখে পড়ার মতো।


বিশেষ করে শুক্রবার ( ১২ মার্চ) গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। বিভিন্ন স্পটে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
বসন্ত স্পর্শে জেগে উঠেছে পর্যটন খ্যাত গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকৃতি কন্যা জাফলং। বাঙালি তার ‘ঘরকুনো’ দুর্নাম ঘোচাতে যেন ভ্রমণ উৎসবে মেতে উঠেছে।প্রিয়জনের সাথে প্রিয় কিছু মুহুর্ত কাটাতে প্রকৃতি কন্যা জাফলং এখন ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড়। বসন্তের আমেজ পেতে অগণিত পর্যটক দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন জাফলং। সকাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। শুধু পর্যটন স্থান নয়; শতাধিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্টে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকদের সরব উপস্থিতি জাফলং পর্যটন স্পট যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।


বিশেষ করে জাফলং পর্যটন কেন্দ্র  তার স্ব-মহিমা আর সৌন্দর্যে খুব সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের। প্রকৃতির ঢেলে সাজানো এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দুর্গাপূজা ও ঈদ-পরবর্তী ছুটির দিনগুলোতে পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে থাকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। এসব পর্যটককে আপ্যায়ন করতে এখানে প্রস্তুত রয়েছে আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল রেস্তোরাঁ। গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্রিক নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে রয়েছে দেশি-বিদেশি কাপড় এবং কসমেটিকসহ নানা রকম উপহার সামগ্রী।


এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা মনে করেন জাফলং এমন একটি জায়গা যেটা পুরানো হয় না। বার বার আসলে মনে হয় যে আবার নতুন করে এসেছেন।’   এদিকে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে জাফলং এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝেও। বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে বেচা-বিক্রিতে সরগরম পর্যটন কেন্দ্র জাফলং এলাকার মার্কেটগুলো। ফলে ভাল ব্যবসা হওয়ায় দারুণ খুশি তারা।


গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং টুরিস্ট পুলিশের (ওসি) রতন শেখ বলেন, শুক্রবার আসলে এমনিতে জাফলংয়ে পর্যটকদের ভিড় জমে, তবে অন্যান্য শুক্রবারের চাইতে আজকের দিনে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পর্যটকদের নিয়ে আসা পরিবহনে ঢাকার গাবতলী বাস ষ্ট্যান্ডকেও হার মানাবে, তিল পরিমান জায়গা খালি নেই।বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, উপজেলার প্রকৃতিকন্যা জাফলং, পর্যটনকেন্দ্রে অন্য দিনের তুলনায় আজ পর্যটকের সমাগম বেশি হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না ঘটে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য জাফলং টুরিস্ট পুলিশ সদস্যের বিভিন্ন পয়েন্টে সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে এবং পর্যটকরা থাকা পর্যন্ত আমাদের টহল অব্যাহত থাকবে।