বার্সেলোনার জার্সি আর মেসির গায়ে উঠবে না।

বার্সেলোনার জার্সি আর মেসির গায়ে উঠবে না।
ছবিঃ সংগৃহীত

ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যাকে নিয়ে তার ভক্তকূলের চিন্তাভাবনার শেষ নেই। অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার সবার মনের কুয়াহা কেটে দিলেন তিনি। 

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় আর থাকছেন না, সাফ জানিয়ে দিলেন।

এছাড়াও আর্জেন্টিনার ক্রীড়াভিত্তিক গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক টুইটের বরাত দিয়ে বার্সা ব্লগরেন্স এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। হতে চলেছে বার্সার  সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন। তিনি সিদ্ধান্তে অটল। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা গ্রস্থ নন মোটেও। 

স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ওন্দাতেরো জানিয়েছে, মেসি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর বার্সার অনুশীলনে যোগ দেবেন না এবং নিয়মমাফিক পরবর্তী করোনা টেস্টে অংশ নেবেন না। দ্রুত চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকানা খুঁজতে চান আর্জেন্টাইন জাদুকর। বার্সার সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তি আছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। ওই চুক্তি নবায়ন তো করবেনই না, শেষ করেও যেতে রাজি নন মেসি।

মেসির এমন সিদ্ধান্তে রাতেই জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে বার্সেলোনার বোর্ড ডিরেক্টরসরা। মেসির এই সিদ্ধান্তের সত্যতা জানিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ফুটবলের জনপ্রিয় গণমাধ্যম গোল ডট কম। এরইমধ্যে অনেকেই  মেসির এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন তদের মধ্যে অন্যতম ক্লাবের সাবেক অধিনায়ক চার্লস পুয়ল। 

যারা মনে করেন মেসি মানেই বার্সেলোনা তাদের এখন এই ধারনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেননা বার্সেলোনায় তাকে আর নাও দেখা যেতে পারে।

মেসি বলতেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখে বার্সেলোনার লোগো ভেসে ওঠে। বার্সা ও মেসিকে মূদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলেই ভাবেন অনেকে।

১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার নিউওয়েলস ওল্ড বয়েস ক্লাব থেকে বিনা ট্রান্সফার ফিতে ন্যু ক্যাম্পে যোগ দেন মেসি। ২০০২ সাল থেকে বার্সা যুবদলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন।

২০০৩ সালে যোগ দেন বার্সার অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। এরপর বার্সা অনূর্ধ্ব-১৯, বার্সা সি দল এবং বার্সা বি দলের হয়ে খেলা সম্পন্ন করে ২০০৫ সালে ১ জুলাই থেকে বার্সার মূল দলে ঠাই হয় তার।

এরপর থেকেই বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হন মেসি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি বার্সেলনার হয়ে ৭৩১ ম্যাচ খেলে ৬৩৪টি গোল করেছেন।

মেসির বার্সা ছেড়ে দেয়ার গুঞ্জন অনেক আগে থেকেই বাতাসে ভাসতে থাকলেও এবারের লা লিগায় ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।

এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর পুরোপুরি ভেঙে পড়েন মেসি। বার্সা প্রেসিডেন্ট বার্তেমেউয়ের সঙ্গে মানসিক দ্বন্দ্বে জড়াতে হয় মেসিকে।

সাবেক কোচ কিকে সেতিয়েন বরখাস্তের পর দায়িত্ব নিয়ে দল থেকে বুড়োদের ছেঁটে ফেলার ইঙ্গিত দেন নতুন কোচ কোম্যান। তবে মেসিকে নিয়ে তার কোনো সমস্যা নেই জানালেও মেসি নিজের হতাশার কথাই জানান।

বার্সায় থাকতে নানাভাবে মেসিকে পটানোর চেষ্টা করলেও অবশেষে ব্যর্থই হলেন কোম্যান।