বয়:সন্ধিকাল ও পারিবারিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা ভয় নয় সচেতনতায় জয় হবে- নিরবতা ভাঙতেই হবে

বয়:সন্ধিকাল ও পারিবারিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা ভয় নয় সচেতনতায় জয় হবে- নিরবতা ভাঙতেই হবে
ছবিঃ সংগৃহীত

মো. নজরুল ইসলাম: মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।।“পারিবারিক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবেলা করি, সুখী পরিবার গড়ি” এই শ্লোগানকে  সামনে রেখে একতা কিশোরী ক্লাব এর আয়োজনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর সহযোগীতায় মানিকগঞ্জের জয়নগর মাঝি পাড়ায় আজ সকাল ১০.০০ ঘটিকা থেকে দুপুর ২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত কিশোরীদের নিয়ে বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যায় করণীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনার শুরতে কর্মসূচির  ধারণাপত্র পাঠ করেন বারসিক প্রকল্প সহায়ক ঋতু রবি দাস। কর্মশালায় প্রধান সহায়ক ছিলেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার ইপিআই স্বাস্থ্যকর্মী মোসা: নাসরিন আক্তার। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার ইপিআই কর্মকর্তা মো.বজলুর রহমান, নারী নেত্রী লক্ষী রাজবংশী প্রমুখ। শুরুতেই স্বাস্থ্যকর্মী নাসরিন আক্তার কিশোরীদের মাঝে নিজের পরিচয় দিয়ে মূল বক্তব্য শুরু করেন। প্রথমে তিনি কিশোরীদের সাথে বয়ঃসন্ধি সমন্ধে তারা কি জানে সে বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন এবং অংশগ্রহনকারিদের ধারনা নিয়ে তিনি সঙ্গায়িত করেন সহজভাবে। তিনি বলেন, মেয়েদের ঋতুস্রাব প্রক্রিয়াটি প্রকৃতি প্রদত্ত এটি প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী সেটি হবেই। কোন কারনে সেটির ব্যাতয় ঘটলেই বা অনিয়মিত হলেই বুঝতে হবে সমস্যা। তাই নারীর জীবনে ঋতুস্রাব প্রক্রিয়াটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ঋতুস্রাবের জন্যই একটি মেয়ে মা হওয়ার ক্ষমতা লাভ করে। প্রতি মাসের ঋতুচক্র বা বয়ঃসন্ধিকালীন শুরুটা মেয়েদের জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই এটিকে গোপন রাখা বা লজ্জায় কারো বলা যাবে না এমন নয়। বরং মা বাবা,বড় বোন বা নির্ভযোগ্য কাছের মানুষের সাথে সহভাগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে আলোচনা করতে হবে।তিনি কিশোরীদের বলেন, তোমাদের যখন প্রথম ঋতুস্রাব হয়, তোমরা সর্বপ্রথম কাকে বল? কিশোরীরা সবাই উত্তর দেয়, তারা তাদের মাকে বলে। নাছরিন আক্তার বলেন, হ্যাঁ, মা ছাড়া আপন আর কেও নেই, তাই এই বিষয়ে সর্বপ্রথম মায়েদের জানাতেই হবে। ভয় নয় সচেতনতায়  জয় হবে নিরবতা ভাঙতেই হবে।

তিনি বলেন আরো বলেন- ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়, রক্তশুন্যতায় অনেক মেয়েরা ভুগেই থাকে তাই আইরন,প্রোটিন জাতীয় শাক সবজি,ফলমূল মাছ মাংস বেশি করে খেতে হবে। এই সময় মেয়েদের ভারি কাজ করা উচিৎ না, এতে স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, মাসিকের সময় আমরা যদি কাপড় ব্যবহার করি, তবে অবশ্যই সেটা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। রোদে শুকাতে হবে।

এছাড়াও মেয়েদের যে সাদা সরাব হয়, সে বিষয়েও আলোচনা করেন, তিনি বলেন স্রাব  যদি অনেক দূর্গন্ধযুক্ত হয়, তবে অবশ্যই নিকটস্থ হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীর সহযোগীতা নিতে হবে প্রয়োজনে গাইনী ডাক্তার দেখাতে হবে। এই বিষয়গুলো অবহেলা করা বা লুকানো যাবেনা, তাহলে এতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অবিবাহিত,বিবাহিত,বিধবা ও বয়স্ক নারীরাও অনেক রোগ গোপন রেখে নিরবে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। যেমন- জরায়ু,কিডনি ও ওভারী সিস্ট অধিকাংশ নারীদের অজান্তেই হয়ে থাকে। সামান্য পেট ব্যাথাকে তারা পাত্তাই দেয় না,ফলে ক্যান্সার এর মতো ঘাতক ব্যাধি নিয়ে মৃত্যুবরন করতে হয় তাদের। তাই নারীদের সমস্যা নিয়ে আগে নারীদেরই এগিয়ে আসতে হবে ভয়কে জয় করে সুখী পরিবার গড়তে হবে।
তিনি  কিশোরীদের ১৫ বছর বয়স থেকে গুরুত্বপুর্ণ ৫ টি টিকার কথা বলেন এবং সেটার গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেন। তিনি আরো বলেন মেয়েদের সুশিক্ষা নিতেই হবে, তোমাদের শত বাধা পেরিয়ে  লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে হবে। আর তোমরা নিজেরা সেচ্ছায় বাল্য বিয়ে করবা না এবং পরিবার আয়োজন করলে নিজে বা সংগঠিতভাবে প্রয়োজনীয় বাধা প্রদান করবে এবং প্রতিহত করবে। তিনি বলেন তোমাদের অধিকার আদায় করতে হলে আরো অনেক বিষয়ে জানতে হবে। জীবনর নিয়ে হেলা নয়,জানার ক্ষেত্রে কোন রকম লজ্জা করলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে। তাই আসুন সকলে সচেতন হই সংগঠিত হই,পারিবারিক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবিলা করি সুখী পরিবার গড়ি।