ভিক্ষুক থেকে স্বাবলম্বী: বাউফলে ইউ এন ও'র দোকান উপহার বদলে দিলো প্রতিবন্ধী বজলুর জীবন

ভিক্ষুক থেকে স্বাবলম্বী: বাউফলে ইউ এন ও'র দোকান উপহার বদলে দিলো প্রতিবন্ধী বজলুর জীবন
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। ২৯ আগস্ট, রবিবার।। শারীরিক প্রতিবন্ধী বজলুর রহমানকে একটি নতুন দোকান উপহার দিয়ে আয়ের পথ তৈরী করে দিলেন বাউফল উপজেলা নিবার্হী অফিসার জাকির হোসেন। ৫১ বছর বয়সি বজলুর রহমান দেখলে মনে হয় ১০-১২ বছরের শিশু। লম্বায় ২ ফুটের একটু বেশি। বেটে আকারের বজলুর রহমান বাউফল সদর ইউনিয়নের কায়না গ্রামের বাসিন্দা মৃত আঃ কাদের হাওলাদারের ছেলে। তারা ২ভাই। ভাইদের মধ্যে বজলুর রহমান বড় ও ছোট রশিদ। মা-বাবা হারা বজলুর রহমান শারিরীক প্রতিবন্ধী হলেও তিনি কর্মক্ষম নয়। মানুষের সাহায্য নিয়ে বাড়ির পাশেই কায়না স. প্রা. বিদ্যালয়ের পাশে তার ছোট্ট একটি দোকান ছিল। বিদ্যালয়ে আসা শিশুদের কাছে খেলনা ও খাবার বিক্রি করে সংসার চালাতো। কিন্তু মহামারি করোনায় বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে তার দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়।দোকানটি বন্ধ থাকায় তাও ঝড় বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়াতে কোন ভারী কাজ করতে না পারায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বজলুর রহমান। 

বজলুর রহমান জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সেখানে গেলে সাহায্যের ব্যবস্থা করে দিবে। নিবার্হী কর্মকতার কার্যালয়ের সামনে এসে সাহস পাচ্ছিলেন না অফিসে ঢুকতে। প্রতিদিনই ভিড় থাকে নিবার্হী দপ্তরে। এর মধ্যেই বজলুর রহমানের ডাক পড়ে। বজলুর রহমানের সমস্যার কথা জেনে গত শনিবার ( ২৮ আগষ্ট) বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠনিক ভাবে সরকারি ভাবে প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করার প্রকল্প থেকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়ে একটি দোকান তৈরী করে ও কিছু মালামাল ক্রয় করে বজলু রহমানের হাতে তুলে দেন বাউফল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জাকির হোসেন। 
এসময়  প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জি,এম সরফাজ।
বজলুর রহমান বলেন,"মোর আল্লা ছাড়া কেউ নেই। আল্লাই মোরে স্যারকে দিয়া করাইছে। মুই নৌকায় ভোট দিছি,শেখ হাছিনা মোগো গরীবরে এ সাহায্য করছে। আল্লায় স্যারেরে বড় করুক"। এই বলে বাঁধ ভাঙ্গা হাসি তার চোখে মুখে।
এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন,সে একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক,তাকে পুর্ণবাসন  প্রকল্পের আওতায় এনে একটি নতুন দোকান তৈরী করে দিয়ে স্বাবলম্বী করে আয়ের পথ তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।