ভিন্ন রকম ইফতার আয়োজনে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা

ভিন্ন রকম ইফতার আয়োজনে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।।দীর্ঘ দুই বছর ধরে ক্যাম্পাসের ইফতার আয়োজন থেকে বঞ্চিত ছিলো শিক্ষার্থীরা। এ দুই বছরে ইফতার আয়োজনের স্বাদ যেন এবার একসাথে নিয়ে নিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

করোনার ধাক্কা সামলিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পুরোদমে মুখরিত তখনি আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত সিয়াম - সাধনার মাস পবিত্র রমজান। এ রমজান মাসের মূল আকর্ষন থাকে ইফতারকে কেন্দ্র করে। সকলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝেও ইফতার নিয়ে থাকে মাসব্যাপী নানা আয়োজন। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট্ট পরিসরের এ ক্যাম্পাসে প্রায় ১৩ হাজারেও বেশি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রঙ্গন। হল না থাকায় এসব শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভাবে ক্যাম্পাসের বাহিরে থাকে বেশিরভাগ সময় জুড়ে। কিন্তু খানিকটা সময় পেলে সবাই একত্রিত হয়ে আড্ডা কিংবা চায়ের গল্পটা বাদ দিতে চাই না। 

রমজান মাসে ঠিক হয়তো উল্টো চিত্র শিক্ষার্থীদের চায়ের আড্ডা বাদ দিয়ে ইফতার আয়োজনকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটিরায় ৪০ টাকার ইফতারের প্যাকাজও যেন তৃপ্তি মিঠে না শিক্ষার্থীদের কাছে। এজন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ছোট্ট ছোট্ট ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে ইফতারের আয়োজন করেন। ক্যাম্পাসের কাঁঠাল তলায়, সাইন্স ভবন, বিবিএ ভবনের নিচে, শহীদ রফিক ভবনের বিভিন্ন অংশে, শান্ত চত্বরের পাশে, মুজিব মঞ্চে কিংবা সকলের মূল আকর্ষন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উপরে বসে ইফতার করা। 

তাছাড়াও কিছু কিছু শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মসজিদের বাহিরে কিংবা ভিতরেও সহ টিএসসির  ছোট দোকানে চলে ইফতারের আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের গল্পটা হয়তো জানার বাকি নেই সকলের। ক্যাম্পাসের সকল সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আয়োজনে চলে পুরো অবকাশ ভবনের চারতলায় মাসব্যাপী ইফতারের আয়োজন। 

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এসব শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের মধ্যে ইফতারের এ আয়োজন করার মূল উদ্দেশ্য থাকে নিজ ক্যাম্পাস আঙ্গিনায় স্মৃতির পাতায় থাকুক সহপাঠী কিংবা সিনিয়র - জুনিয়র ভাই-বোনদের সাথে ইফতারের একখণ্ড রঙিন মুহুর্ত। শিক্ষার্থীদের এসব ছোট্ট পরিসরের ইফতার আয়োজনের মধ্যে দিয়ে যেন জমে উঠে সেই পুরানো দিনের ক্যাম্পাস জীবনের সোনালী অতীতের রঙিন কাব্য। যেই কাব্যে হয়তো চিত্র  লেখক একজন কিন্তু সহযোদ্ধা লেখক সকলে। 

ক্যাম্পাসের এসব ইফতারের গল্পে শোনা যায়, কোনো কোনো শিক্ষার সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে সহপাঠীদের সাথে ইফতারে সামিল হওয়ার জন্য। কেউ কেউ তো দূর দূরান্তের পথ পাড়ি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে একত্রিত হয় ক্যাম্পাসের ইফতার আয়োজন। খুনসুটি, আড্ডা, ঝগড়াঝাঁটি কিংবা মিলনমেলা সবকিছু ঘিরে থাকে এ ইফতার আয়োজনের মধ্যে দিয়ে।

ক্যাম্পাসের ইফতার আয়োজন নিয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, ক্যাম্পাসের ইফতারের মধ্যে একটা সুখকর স্মৃতি জড়িয়ে থাকে সকল শিক্ষার্থীদের মনে। আমাদের সহপাঠী কিংবা সিনিয়র - জুনিয়রদের সাথে ইফতার আয়োজনে কতটা আনন্দপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয় যা হয়তো কখনো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। 

ক্যাম্পাসের ইফতারকে কেন্দ্র করে সবসময় বাড়তি আমেজ থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে। এবারে প্রথম ক্যাম্পাস জীবনের ইফতার নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ বলেন, এই প্রথম ক্যাম্পাস জীবনে ইফতার করলাম আমরা সহপাঠীদের সঙ্গে। সকলে মিলে একত্রিত হয়ে ইফতার করার আনন্দটা সত্যি অন্য রকমের অনুভূতি কাজ করেছে আমাদের মধ্যে। রমজানের ভাতৃত্বের বন্ধনে এসব ছোট ছোট ইফতার আয়োজনে ক্যাম্পাসকে আরও সুন্দর করে তুলবে আমাদের মাঝে। 

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ইফতার আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সব স্মৃতিগুলোই রঙিন হয়ে থাকে আমাদের জীবনে। বেলা গড়ালে সকলে মিলে ইফতারের আয়োজন পারস্পারিক ভাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে। সৌহার্দ্যবোধের মাধ্যমে সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।