ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে চরনগরদী শ্মশানে  সনাতন ধর্মের লোকজন মরদেহ দাহ করতে পারছেনা

ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে চরনগরদী শ্মশানে  সনাতন ধর্মের লোকজন মরদেহ দাহ করতে পারছেনা

হলধর দাস, নরসিংদী : সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুদের অত্যাচার নির্যাতনের কারণে প্রায় দুই শত বছরের পুরনো শ্মশানে সনাতন ধর্মের লোকজন  মরদেহ দাহ করতে নানাবিধ বাধার সম্মুখিন হচ্ছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের চরনগরদী গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত শ্মশানটি অতিব প্রাচীণ। যুগযুগ ধরে শ্মশানটিতে সনাতন ধর্মের লোকজন মৃত ব্যক্তিদের শবদেহ দাহ করে আসছে। ইতিপূর্বে তাহারা কোনো সময়ই কোনো বাধার সম্মুখীন হয়নি। ইদানিং একই এলাকার মাঝেরচর গ্রামের কুখ্যাত ভূমিদস্যু বলে খ্যাত মো: সামসু মিয়া, ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী এই শ্মশানে হিন্দুদের শবদেহ সংস্কার কাজে বাধা প্রদান করছে এবং শ্মশান কমিটির লোকদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে চলছে। এ শ্মশানে মরদেহ দাহ করার জন্য নিয়ে আসলে কেউই প্রাণে রক্ষা পাবেনা বলে সে হুমকি দিচ্ছে। সন্ত্রাসী সামসু শ্মশানের জমি তার নিজের দাবী করে জোরপূর্বক অর্ধেকেরও বেশী অংশে খুটি পুতে রেখেছে এবং সে ওহা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তার এই ভূমিদস্যুতার কর্মকান্ডে শ্মশান কমিটির সভাপতি মাধব দাস ও সাধারণ সম্পাদক দীলিপ চন্দ্র দাস পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলে পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশকে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মোতাবেক জিনারদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো: আব্দুল হাসেম সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করেছেন। তিনি তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, বহু পূর্ব থেকে শ্মশান স্থাপন করে এলাকার সনাতন ধর্মের লোকজন মৃত লাশ দাহ করে আসছে। শ্মশানটি ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক নদী খননকালে চলমান শ্মশানটি ভেঙ্গে ফেলায় বর্তমানে মৃত লাশ দাহ করার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং শ^শানের আশেপাশে অন্য কোনো শ্মশান না থাকায় দূরদূরান্তের সনাতন ধর্মের ব্যক্তিগন এ শ্মশানটি ব্যাবহার করে আসছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন তদন্তকালে ভেঙ্গে ফেলা শ্মশানটি সংস্কার কাজ করার ক্ষেত্রে পার্শবর্তি জোত জমির কতিপয় ব্যক্তি জমির সিমানা ও মালীকানার বিষয় নিয়ে সংস্কার কাজে বাধা প্রদান করে আসছে। রেকর্ডপত্র পরীক্ষান্তে দেখা যায় নি¤œ তপসিল বর্ণিত শ্মশানের জায়গাটি এসএ, আরএস ও সর্ব শেষ বিএস রেকর্ড মোতাবেক শ্মশান হিসেবে ১নং খাস শ্রেণী খতিয়ানে রেকর্ড ভূক্ত আছে। 
এব্যাপারে চরনগরদী শ্মশান ঘাট কিমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সনাতন ধর্মের লোকজন ভূমি দস্যু সন্ত্রাসী ফজলু মিয়ার হাত থেকে শ্মশান রক্ষা ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।