ভূরুঙ্গামারীতে জমি দখলে ভাড়াটে কুলি শ্রমিক সিন্ডিকট চক্র

ভূরুঙ্গামারীতে জমি দখলে ভাড়াটে কুলি শ্রমিক সিন্ডিকট চক্র
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। ১১ এপ্রিল, রবিবার।। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা জড়িয়ে পরছে নানান অপরাধে। এসব ভাড়াটে কুলি শ্রমিকদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র অন্যের জমি জবর দখলসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছ। আর এসব অন্যায় কাজে খোদ স্থানীয় থানা পুলিশের সসদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা। নানান মামলায় ফেলে সর্বশান্ত করা হচ্ছে নিরীহদের। দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব! সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামারের বই ব্যবসায়ী বাদশা সিকদারের ২১ শতক জমি নিয়ে হয়েছে ১৪/১৫টি মামলা। ক্রয় এবং মিসকেস সূত্রে প্রাপ্ত জমি ভোগদখল করলেও প্রভাবশালী প্রয়াত আকবর আলী ও তার স্বজনরা কুলি-শ্রমিক ও বহিরাগতদের নিয়ে প্রায়ই হামলা ও হুমকির সম্মুক্ষিণ হচ্ছেন। ফলে আতঙ্ক আর হতাশায় কাটছে তাদের দিন। সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলার রায় পেলেও প্রতিপক্ষের কাছে অসহায় এই পরিবারটি। পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না। 

বাদশা শিকদারের স্ত্রী জানান, থানার পিছনে বাড়ি হলেও পুলিশের সহযোগিতা দূরের কথা উল্টো খারাপ ব্যবহারের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। মামলায় আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দুবেলা খাবার জোটাতে পারছি না।

একই অবস্থা করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বেলদহ গ্রামের অধিবাসী মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলীর পরিবারের সাথে। জমিজমা সংক্রান্ত মামলা আদালতে চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কুলি-শ্রমিকদের দিয়ে দফায় দফায় তার বাড়িতে হামলা করে। কেটে ফেলা হয় বাগানের সব গাছ।

মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলী জানান, ৭ বিঘা জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ মোক্তার, শহিদুল, লতিফ ও কামরুজ্জামান গংদের সাথে বিরোধ মেটাতে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা ও উপজেলা প্রশাসনে সালিশ বৈঠকে সমাধান হয়নি। মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। মামলা চলাকালীন কুলি, শ্রমিক ও বহিরাগতদের নিয়ে এসে দিনে রাতে ৫ বার আমার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদে হামলার স্বীকার থেকে বাদ পড়েনি ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতিমনিও। প্রাইভেট থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রাস্তায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেছে বলে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ইতিমনি সাংবাদিকদের জানান।

কুলি-শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলে ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম লিটন। তিনি জানান, সদর ইউনিয়নের বাঘভান্ডার গ্রামে ৩ শতক জমির বাটোয়ারা নিয়ে বড় ভাইয়ের সাথে তার বিরোধ রয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি কুলি-শ্রমিকদের ভাড়ায় নিয়ে এসে বাড়িতে তাণ্ডব চালানো হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

রবিউল ইসলাম লিটনের বোন জানান, কুলি-শ্রমিকদের হামলা থেকে নারী-মেয়ে কেউ রেহাই পায়না। তারা জমি দখল করতে এসে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। যে ভাষাগুলো মুখে আনা সম্ভব নয়। ওদের ভয়ে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। সরকার যেন এসব প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়।

কুড়িগ্রাম উত্তর ধরলা বাস শ্রমিক উপ-কমিটির সভাপতি বশির আহমেদ বাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জানান, এসব কাজে যারা জড়িত তারা আমাদের নিবন্ধিত শ্রমিক নয়। এরা শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরাও চাই সরকার এদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, জেলার ভূরুঙ্গামারীতে জমিজমা জবর দখল নিয়ে কিছু অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। এই বিষয়ে শ্রমিক সংগঠন ও তাদের তালিকা সংগ্রহ করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।