ভিয়েতনামের নকল মোবাইল তৈরী হয় গুলিস্তানে: বিক্রি হয় এক হাজারে

ভিয়েতনামের নকল মোবাইল তৈরী হয় গুলিস্তানে: বিক্রি হয় এক হাজারে
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট।। রাজধানীর গুলিস্তানে একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে এসব নকল মুঠোফোন উদ্ধার করেছে র‌্যাব  রাজধানীর গুলিস্তানে একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে এসব নকল মুঠোফোন উদ্ধার করেছে র‌্যাব  

মেড ইন চায়না, মেড ইন ভিয়েতনাম, মেড ইন ফিনল্যান্ড লেখা মুঠোফোনগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই সেগুলো নকল। সারা দেশে বিক্রিও হচ্ছিল এসব মুঠোফোন। কিন্তু এগুলো তৈরি হচ্ছিল রাজধানীর গুলিস্তানের একটি ছোট ঘরে। তৈরি করছিলেন পঞ্চম শ্রেণিতে পাস একজন মুঠোফোন মেরামতকারী।

সেখানে অভিযান চালিয়ে মো. স্বপন (২৬) নামের ওই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সেখান থেকে ১ হাজার ৪৯৫টি নকল মুঠোফোন জব্দও করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রোববার নকল মুঠোফোন তৈরির ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে মুঠোফোনে ভুয়া আইএমইআই নম্বর বসানোর যন্ত্রও পাওয়া গেছে। সেখানে দিনে অন্তত ৫০টি নকল মুঠোফোন তৈরি করা হতো।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বপনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে। দুই বছর আগে কাজের সন্ধানে তিনি ঢাকার মতিঝিলে আসেন। সেখানে একটি অফিসে কিছুদিন অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করেন। সেখানকার একজন কর্মীর মাধ্যমে তাঁর এক মুঠোফোন মেরামতকারীর সঙ্গে পরিচয় হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, স্বপন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও তাঁর প্রযুক্তিজ্ঞান ভালো ছিল। একপর্যায়ে তিনি অফিস সহকারীর চাকরি ছেড়ে বিনা বেতনে মুঠোফোন মেরামতের কাজ শুরু করেন। এই কাজ শেখার পর ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে মুঠোফোন তৈরি শুরু করেন। গত দুই বছরে প্রায় ১০ হাজার নকল মুঠোফোন তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছেন।

মো. স্বপন নামের পঞ্চম শ্রেণি পাস এই ব্যক্তি নকল মুঠোফোন তৈরি করছিলেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে  মো. স্বপন নামের পঞ্চম শ্রেণি পাস এই ব্যক্তি নকল মুঠোফোন তৈরি করছিলেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে  

আরিফ মহিউদ্দিন জানান, প্রতিটি মুঠোফোন তৈরিতে স্বপনের খরচ হতো ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। এগুলোর প্রতিটি তিনি বিক্রি করতেন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। এভাবে অর্থ আয় করে গত দুই বছরে স্বপন তাঁর গ্রামে অনেক জমি কিনেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।