মাগুরায় লিচুর ভালো ফলন ও দামে খুশি চাষিরা

মাগুরায় লিচুর ভালো ফলন ও দামে খুশি চাষিরা
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা প্রতিনিধি।। মাগুরায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। গ্রীষ্ম মৌসুমে মাগুরা সদরের হাজরাপুর, হাজিপুর ও রাঘবদাইড় ইউনিয়নের ইছাখাদা, মিঠাপুর, গাঙ্গুলিয়া, খালিমপুর, মির্জাপুর, পাকাকাঞ্চনপুর, বীরপুর, রাউতড়া, বামনপুর, আলমখালি, বেরইল, লক্ষ্মিপুর, আলাইপুর, নড়িহাটিসহ ৩৫টি গ্রামের চাষিরা গত ২ দশক ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ৩ শতাধিক চাষিরা লিচুর চাষ করে থাকেন। দুই মাস আগে থেকে যখন লিচুর ফল আসতে শুরু করে ছিলো ঠিক তখনই বৃষ্টিপাত হযেছে। নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টি হওয়াতে এবার লিচুর ফলন ভালো হয়। গতবার যেখানে বৈশাখের শুরুতেই প্রচণ্ড তাপদাহ থাকায় লিচু ফেটে গিয়েছিলো। আর এবার ফলন ভালো হওয়াতে লাভবান হয়েছে চাষিরা। চলতি মৌসুমে এবার জেলায় মোট লিচুর আবাদ হয়েছে ৬৫০ আনুমানিক হেক্টর জমিতে। চাষিরা এবার স্থানীয় জাত হাজরাপুরী, মোজাফফরী, বোম্বায়, চায়না-৩ সহ বিভিন্ন জাতের লিচু আবাদ করেছে। জেলার চার উপজেলার মধ্যে সদরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়ে থাকে। মাগুরা সদরের ইছাখাদা গ্রামকে বলে লিচুর গ্রাম। এবার বাগানের প্রতিটি গাছে তুলনামূলক লিচু থাকাতে চাষিরা রয়েছেন খুশিতে।

মাগুরা সদরের হাজরাপুর গ্রামের চাষি রবিউল ইসলাম তিনি জেলার কৃষি নিয়ে কাজ করেন। সব সময় থাকেন কৃষকের পাশে।

তিনি বলেন, আমার ১ টি বাগানে মোট ১১৪ টা লিচু গাছ রয়েছে। বাগানের প্রতিটি লিচু গাছে এবার লিচু হয়েছে। প্রতিটি গাছে ফল থাকাতে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তেমন নেই। লিচুর মুকুল আসার আগে নিয়মিত সেচ ও সার প্রদান করে এসেছি। মুকুল শেষে লিচু ফল যখন একটু একটু বড় হতে থাকে ঠিক তখনই বৃষ্টি পেয়ে লিচুর জন্য অনেক উপকার হয়েছে। গত বছর প্রচণ্ড তাপে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। তাপে পুড়ে লিচুর রং নষ্ট হয়ে ফলন বিপর্যয় হয়েছিল। মাগুরা সদরের প্রতিটি লিচু বাগানে আমি গিয়েছি, এবার জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর প্রায় ২২ থেকে ২৩ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে।

সদরের ইছাখাদা গ্রামের লিচু চাষি আলম বিশ্বাস জানান, আমার ২ শতাধিক লিচুর গাছ রয়েছে। বাগান রয়েছে ৩ টি। এবার বাগানের প্রতিটি গাছে ভালো মুকুল এসেছিলো। নিদিষ্ট সময়ে বৃষ্টি হওয়াতে লিচুর ফলন ভালো হয়েছিলো। গত বছর প্রচণ্ড তাপদাহে প্রতিটি গাছের অধিকাংশ লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। তবে এবার লিচুর ভালো ফলনে আমাদের আর্থিক সংকট বিপর্যয়ের শঙ্কা থেকে রক্ষা পাবে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, জেলায় মোট ৬৫০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এবার নিদিষ্ট সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়াতে লিচু নষ্ট হয়নি। আমরা লিচু চাষিদের নিয়মিত ফ্রেশ পানি দিয়ে সেচ ও গাছের গোড়ায়, পাতায় এবং ফলে স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি। এবার বৃষ্টিপাত হওয়ায় লিচুর ফলনে বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিলো না। কৃষি বিভাগ থেকে সব সময় চাষিদেরকে নানা রকম পরামর্শ দিয়েছি আমরা।