মোতালেব পরিবারের জন্য নয়,এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছেন

মোতালেব পরিবারের জন্য নয়,এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছেন
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল,পটুয়াখালী।। ১৯ জুন,শনিবার।।পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কৃতি সন্তান মোতালেব নিজের ও পরিবারের জন্য না করে এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৭৬ সালে মাত্র ৫ বছর বয়সে ক্ষুধা ও দারিদ্রের তাড়নায় পালিয়ে যায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের এবং ধূলিয়া গ্রামের ছেলে আব্দুল মোতালেব। একজন হল্যান্ডের নি:সন্তান  পরিবার এই পালিয়ে যাওয়া ছেলেটি মোতালেবকে দত্তক হিসেবে হল্যাল্ড নিয়ে যান। ১৯৯৪ সালের পর মোতালেব নিজের শিকড়ের খোজে জন্মভূমি বাউফলের ধূলিয়া ইউনিয়নের নিজের গ্রামে আসেন এবং খুঁজে পান তার পরিবারকে। 

 মোতালেবের এই ঘটনা সেই সময় দেশে বিদেশে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে ছিল। সেই সময় মোতালেব ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, তিনি তার পরিবারের জন্য নয় তিনি গ্রামের উন্নয়নের জন্য কিছু করতে চান। ২০০১ সালের মে মাসে ইত্যাদিতে দেখিয়ে ছিল মোতালেব তার স্ত্রী ইনগ্রিড দুসিকে নিয়ে নিজ গ্রামে নানাপ্রকারের উন্নয়নমূলক কাজ করছিলেন এর আগেই ১৯৯৭ সালে কালিশুরিতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন স্লোব-বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টার। 
 স্বাস্থ্য সচেতনতা পয়:নিস্কাশন এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য গ্রামে কয়েক শত নলকূপ স্থাপন করেছিলেন। যা বর্তমানে চলমান আছে। দরিদ্র মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য মুরগির খামার করে দেন। নির্মাণ করেছেন মাতৃসদন ফ্রি ক্লিনিক,শুরু করেছেন এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য এতিমখানা। মোতালেব বলেছিলেন, আমি রাস্তা ঘাটে ঘুমাইয়া ছিলাম, আমি বুঝি এতিমদের কি কষ্ট। বিভিন্ন সময়ে বিদেশীরা বেড়াতে আসতো এবং গ্রামবাসীদের সাথে কয়েক দিন কাটিয়ে যেত। গ্রামের মানুষেরা সবাই খুব খুশি হত তার মিশুক আচরনের জন্য।
 ২০১৯ সালে ইত্যাদির এই অনুষ্ঠান ধারন করতে গিয়ে  হানিফ সংকেত বলেছিলেন, আমরা মূলত এখানে এসেছি মোতালেবের কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য। মোতালেব এই কাজ তার নিজ গ্রাম ধূলিয়াতে থেমে নেই আশে পাশের অনেক গ্রামে ছড়িয়ে গিয়েছিল। এখন প্রায় ৫টি উপজেলায় কাজ করতেছে। এখানে একটি হসপিটাল স্থাপন করা হয়েছে এবং অপারেশন থিয়েটার ও আছে। সেখানে আধুনিক সব রকমের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা আছে। বাউফলের ৮টি ইউনিয়নের রুগীদের শহরে যেতে হয়না। ২০১৩ সালে মোতালেবের স্ত্রী ইনগ্রিড দুসি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি এই হাসপাতালের সেবিকার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্ত্রীর নামে এই হাসপাতারের নাম রাখেন, ইনগ্রিড মেমোরিয়াল হাসপাতাল। এতিম খানার ছেলে মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠত হচ্ছে। বর্তমানে সংস্থায় ৫টি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। ১০২  জন কর্মকর্তা ও কর্মচারি কর্মরত আছেন ।
স্লোব-বাংলাদেশ এর নিবার্হী পরিচালক সহিদুল ইসলাম প্রতিনিধিকে বলেন, তিনি বর্তমানে  হল্যান্ডে পরিবারবর্গ নিয়ে বসবাস করছেন। দেশের ও এলাকার টানে বছরের দুই ,এক বার এসে সংস্থার কার্যক্রমের খোজ খবর নিতেন। করোনার জন্য এলাকায় এখন না আসলেও সার্বক্ষনিক খোজখবর নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন,স্লোব-বাংলাদেশ মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন মানবকল্যাণ সেবা দিচ্ছে সুন্দর ভাবে এতেই (মোতালেব ) সুখী ।