মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

দোলন আক্তার সাধনা।।ভৈরব প্রতিনিধি।।মানব পাচার চক্রের মূল হোতা ও একাধিক চেক জালিয়াতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ফরিদুজ্জামানকে ঢাকা জেলার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩, ভৈরব ক্যাম্প।

গ্রেফতারকৃত ফরিদুজ্জামান(৩৭) কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার গচিহাটা এলাকার আখতারুজ্জামানের ছেলে।


আজ শনিবার (০২ জুলাই) দুপুরবেলায় কোম্পানী অধিনায়কের কার্যালয় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪ সিপিসি-৩, ভৈরব ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,দীর্ঘদিন যাবৎ কিছু অসাধু দালাল সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশে উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিনিয়ত অসহায় বাংলাদেশীদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যার ফলে তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের প্রতিকুল পরিস্থিতি সম্মুখীন হচ্ছে।


 
এছাড়াও অসহায় গরীব মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নিয়ে তাদেরকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানায় মানবপাচার বিরোধী আইনে মামলা রুজু হয়েছে।

মানব পাচার ঘটনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৪ প্রাথমিক পর্যায়ে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ০১/০৭/২০২২খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ০৩.৩০ ঘটিকার সময় ঢাকা জেলার মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত মানব পাচার চক্রের মূল হোতা আসামী ফরিদুজ্জামান(৩৭)কে গ্রেফতার করেন।


 
তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, সে সৌদি আরবে মিথ্যা চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে নিরিহ মানুষদের কাছ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬-৭ লক্ষ টাকা নেয়। পরবর্তীতে মানব পাচার চক্রের সাথে যোগসাজস করে তাদেরকে সোদি আরবে আবদ্ধ রুমে আটকে রেখে নির্যাতন করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আরো মোটা অংকের টাকা দাবি করে।

উল্লেখ্য যে, বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ, ৩য় আদালত, কিশোরগঞ্জ কর্তৃক ধৃত আসামীকে সিআর মামলা নং-৮৪(১)১৯, এন.আই. এক্ট এর ১৩৮ ধারায় ০১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩৪,০০,০০০/-টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন এবং বিজ্ঞ যুগ্ম দায়রা জজ, ১ম আদালত, কিশোরগঞ্জ কর্তৃক সিআর মামলা নং-৮৩(১)১৯, এন.আই. এক্ট এর ১৩৮ ধারায় ০১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২৮,০৫,০০০/-টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি সিআর মামলা নং-১৩১(১)১৯, সিআর মামলা নং- ১২৯(১)১৯, সিআর মামলা নং-২১(১)১৯, সিআর মামলা নং- ৩০০(১)১৯, সিআর মামলা নং- ৪৬৫(১)১৯ এবং সিআর মামলা নং- ৪৬৬(১)১৮ মামলা সমূহে ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামী।


 
উপরোক্ত ঘটনা সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।