মেম্বরর পোয়ায় আঁর ভাতার টেঁয়াগুনও লই ফেলাইয়ি,

মেম্বরর পোয়ায় আঁর ভাতার টেঁয়াগুনও লই ফেলাইয়ি,
ছবিঃ সংগৃহীত
এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। ২৪ জুলাই, শনিবার।। 
“চারগ পোয়া উগ্গ মাইয়ে আছিল তারা মরি গেইয়িগু, জামাইও মরি গেইয়ি, আ্ঁত্তে কেয়াই নাই, সরগারর টেঁয়া পায়তমদে এগুনও মেম্বরর পোয়া লই ফেলাইয়ি, এহন কেয়ায় দিলি হায়, নদিলি উয়স থাকি” (৪ ছেলে ১ মেয়ে ছিল, তারা মারা গেছে, স্বামীও মারা গেছে, এখন আমার আর কেউ নেই, সরকারের বয়স্ক ভাতা পেতাম ওগুলোও মেম্বারের ছেলে নিয়ে ফেলেছে, এখন কেউ দিলে ভাত খায় নাদিলে উপোস থাকি)। 
কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলছিলেন ৯১ বছরের বৃদ্ধা অরণ্য বালা দে। তিনি  আনোয়ারা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (ইউপি) সদস্য মিনু রানী দত্ত ও ছেলে নিরোৎপল দত্তের (৩৫) বিরুদ্ধে তার বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোয়ালগাঁও গ্রামে।
জানা যায়, গত ৬ মাস ধরে আনোয়ারা উপজেলার সদর ৭ নম্বর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডেও বোয়ালগাঁও গ্রামের বিধবা অরণ্য বালা দে (৯১) নামের এক বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতার টাকা নিজের মোবাইলের নগদ একাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করছেন সংরক্ষিত (ইউপি) সদস্য মিনু রানী দত্তের ছেলে নিরোৎপল দত্ত। গত ৬ মাস ধরে বয়স্ক ভাতার টাকা না পাওয়ায় ভুক্তভোগী অরণ্য বালা দে ও তার নাতি মিটন দত্ত (৩৬) উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে এই তথ্য বেরিয়ে আসে। এ নিয়ে এলাকা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউপি সদস্য মিনু রাণী দত্ত ও তাঁর ছেলে নিরোৎপল দত্ত টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে এখনো টাকা ফেরত দেননি। 
নাতি মিটন দত্ত জানান, তার দাদী স্বামী-সন্তানহীন বৃদ্ধা অরণ্য বালা দে (৯১) গত ৬ মাসের বয়স্ক ভাতার টাকা পাচ্ছিলেন না। টাকা না পেয়ে সমাজ সেবা অফিসে আবেদন করলে তারা জানান, তার (অরণ্য বালা দে'র) জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ইতোপূর্বে “০১৮২২৩০৮৬০৫” নম্বরে মোবাইলে নগদ একাউন্ট খোলা হয়েছে। এবং ঐ একাউন্টে টাকাও জমা হয়েছে। পরে ওই নাম্বারে ফোন করে জানতে পারি এই একাউন্টটি স্থানীয় সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মিনু রাণী দত্তের ছেলে নিরোৎপল দত্তের। নিরোৎপল দত্তের সাথে বয়স্ক ভাতার বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বিষয়টি কাউকে না জানানোর অনুরোধ জানিয়ে টাকা ফেরত দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনো কোন টাকা ফেরত দেয়নি বলে তিনি জানান।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি চায়ের দোকানের পেছনে ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘরে অসুস্থ শরীর নিয়ে বসে আছেন অরণ্য বালা দে (৯১)। তবে ন্যাশনাল আইডি কার্ডে ৯১ বছর বয়স হলেও স্থানীয়দের মতে ১০০ বছরের উপরে হবে অরণ্য বালার বয়স। মিটন দত্ত তাঁর এক মাত্র নাতি সে তাকে দেখাশোনা করেন। কিন্তু সেও থাকে ভাড়া বাসায়। তাদের কোন বাড়ি-ঘর নেই। টাকার অভাবে গত ৩ মাস ধরে মানবেতর জীবন যাপন কাটছে অরণ্য বালার।
এদিকে স্থানীয় লোকজন  ইউপি সদস্য মিনু রাণী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগীর নাতি মিটন দত্ত আরও জানান, তার দাদীর বয়স্ক ভাতার টাকা না আসলে দাদীকে নিয়ে সমাজ সেবা অফিসে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের ছেলের একাউন্টে এই টাকা জমা হচ্ছে, পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে টাকা ফেরত দেবে বলে জানায়, কিন্তু এখনো দেয়নি।
সংরক্ষিত ইউপি সদস্যা মিনু রাণী দত্ত বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'অরণ্য বালার “নগদ একাউন্টের” কোন মোবাইল ফোন না থাকায় আমার ছেলের একাউন্ট নাম্বার সমাজ সেবা অফিসে দেওয়া হয়েছে। ঐ একাউন্টে ৩ হাজার টাকা এসেছে। আগামীকাল ২৫ জুলাই (রবিবার) ফেরত দিয়ে দেব।'
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, একজনের টাকা অন্যজনের একাউন্টে যাওয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।