ম্যাজিস্ট্রেট সেজে ১০ টি বিয়ে করা প্রতারক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি গ্রেফতার

ম্যাজিস্ট্রেট সেজে ১০ টি  বিয়ে করা প্রতারক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট।। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে অভিনব প্রতারণা সাইবার পুলিশের অভিযানে প্রতারক গ্রেফতার।

মোঃ মামুন ইসলাম নামের ব্যক্তি পেশায় গ্রিল ওয়ার্কশপের কর্মচারী হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে একজন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সহকারী উপ সচিব, কখনও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কখনও ব্যাংক কর্মকর্তা আবার কখনও ইঞ্জিনিয়ার এছাড়াও নিজেকে উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মেয়ে ও সাধারণ লোকেদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে বদলী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে বিদেশ গমনসহ নানা সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ করতো।

নিজের আসল পরিচয় গোপন করে সব তথ্য অবিকৃত রেখে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করতো। তবে তার বেশী আগ্রহ বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের প্রতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তার শরীরের অবয়বের সাথে মিলে যায় এমন শারীরিক গঠনের মুখে মাস্ক পরিহিত কিংবা মুখাবয়ব স্পষ্ট বোঝা যায়না এমন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ের ছবি নিজের ছবি হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করতো। সম্পর্কের এক পর্যায়ে সে ভুক্তভোগী মেয়েদেরকে বিয়ের প্রস্তাব দিতো এবং  ভুক্তভোগী মেয়েদেরকে খুব দ্রুতই বিয়ে করতে চায়, যদি কোন ভুক্তভোগী তার বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া না দিতো, তাহলে প্রতারক মামুন আত্মহত্যা করবে মর্মে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে মেয়েদেরকে বিয়েতে রাজি করাতো। পরে বিয়ের ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগী মেয়েদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করতো।
এভাবে এক ভিক্টিমের সাথে প্রতারক মামুনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্ম্পক গড়ে উঠে। এ সময় সে নিজেকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যকার সর্ম্পক গভীর থেকে গভীরতর হয়। প্রতারক মামুন কখনো ভিক্টিমের সাথে সরাসরি দেখা করতো না। বিভিন্ন সরকারী কাজে খুবই ব্যস্ত আছে অথবা তার ছুটি হচ্ছেনা এরকম বিভিন্ন অজুহাত তৈরী করে সরাসরি বিবাহ অনুষ্ঠানে আসতে পারছেনা বলে জানিয়ে প্রতারক মামুন ভুক্তভোগী মেয়ের নামে কাজী অফিসের সিলমোহরযুক্ত ভূয়া নিকাহনামা প্রস্তুত করে ভুক্তভোগী মেয়ের ঠিকানায় কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেয় এবং মেয়েটিকে উক্ত কাবিননামায় স্বাক্ষর করে প্রতারক মামুন ইসলামের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে বলে। ভুক্তভোগী মেয়েটি সরল বিশ্বাসে মামুনের কথামতো কাজ করার কিছুদিন পর সে উক্ত মেয়ের বাসায় যায় এবং ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে করে কিছুদিন একসাথে বসবাস করে। ভূয়া বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পরে প্রতারক মামুন মেয়েটিকে আপত্তিকর ও অশালীন অবস্থায় ভিডিও কলে আসতে বলতো। আপত্তিকর অবস্থায় মেয়েটির সাথে ভিডিও কলে কথোপকথনের সময় ভিক্টিম মেয়েটির অগোচরে প্রতারক মামুন আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও কলের স্ক্রিন রেকর্ড করে সেই ভিডিওগুলো নিজ মোবাইলে সংরক্ষন করে রাখতো। পরবর্তীতে উক্ত ভিডিওগুলো অনলাইনে ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দিবে বলে হুমকি  প্রদান ও অর্থ দাবী করতে থাকে এবং এভাবে সে ভিক্টিম মেয়েটির কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করে।
ভিক্টিম মেয়েটি প্রতারক মামুনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার হয়ে ডিএমপির পল্টন থানায় প্রতারক মামুনের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইনভেস্টিগেশন ও অপারেশনস টিম মামলাটির তদন্ত ভার পাওয়ার পর প্রতারক মামুনকে সনাক্তপূর্বক গ্রেফতার করার জন্য কার্যক্রম শুরু করে। ব্যাপক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পর প্রতারককে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনস টিম। পরবর্তীতে সিআইডির সাইবার পুলিশের একটি চৌকষ টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত প্রতারক মামুনকে দিনাজপুর জেলার খানসামা থানাধীন আমতলী বাজার থেকে গত ৩১/০৮/২০২২ খ্রি. ১৬.০০ ঘটিকার সময় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকালীন প্রতারক মামুনের কাছ থেকে ০৫ (পাঁচ) টি নকল নিকাহনামা, মোঃ মামুন ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বানিজ্য মন্ত্রনালয় এর বদলীর ভূয়া অফিস আদেশের কপি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০২ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রতারক মামুন এর আসল নাম মোঃ মমিনুল ইসলাম (৩০), পিতা- মোঃ আব্দুস সাত্তার, মাতা- মোছাঃ মরিয়ম, সাং- গোবিন্দপুর, থানা- খানসামা, জেলা- দিনাজপুর। মোঃ মমিনুল ইসলাম (৩০) বিভিন্ন সময় নিজেকে  উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন পদের সরকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মেয়েদের সাথে প্রতারণামূলক প্রেমের সর্ম্পক স্থাপন করে প্রায় ১০ জন মেয়েকে বিয়ে করে এবং তাদের কাছ থেকে ব্ল্যকমেইলিং এর মাধ্যমে  বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে। প্রতারক মামুনের মোবাইল ডিভাইসে ৫০ এর অধিক মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথোপকথন ও অসংখ্য ন্যুড ভিডিও পাওয়া যায়।