মারিজুয়ানা কাণ্ড: জাকার্তা থেকে বাংলাদেশি কূটনীতিক প্রত্যাহার

মারিজুয়ানা কাণ্ড: জাকার্তা থেকে বাংলাদেশি কূটনীতিক প্রত্যাহার

জাকার্তার বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন কাজী আনারকলিকে ফিরিয়ে এনেছে সরকার। তার বাসায় নিষিদ্ধ মাদক  মারিজুয়ানা পাওয়ার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়া সরকারের অনুরোধে তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, আনারকলির দক্ষিণ জাকার্তার বাসায় ইন্দোনেশিয়া সরকারের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গত ৫ই জুলাই আচমকা অভিযান চালায়। ওই অ্যাপার্টমেন্ট টাওয়ারে নিষিদ্ধ মাদক মারিজুয়ানা রক্ষিত আছে- এমন অভিযোগে অভিযান চলে।

ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিক আনারকলি দায়মুক্তির আওতাধীন ছিলেন। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ান মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সেটি উপেক্ষা করেই বাসায় অভিযান চালায় এবং তাকে আটক করে নিয়ে যায়। অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পর দূতাবাসের জিম্মায় ছাড়া পান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটি জানার পরপর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। তার দেশে ফেরার আদেশ জারি করে। মানবজমিনের জিজ্ঞাসার জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ডি এম সালাহ উদ্দিন মাহমুদ কূটনীতিক আনারকলিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্বীকার করেন।

এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, সম্প্রতি জাকার্তায় কর্মরত এক কূটনীতিককে শিষ্টাচার ও তার দায়িত্বের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণের অভিযোগে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বিদেশে কর্মকালের স্বাভাবিক সময় পার করেছেন। 
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের তরফে মানবজমিনকে দেয়া ওই লিখিত বার্তায় মহাপরিচালক বলেন, সদর দপ্তর ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র ক্যাডারের ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা কাজী আনারকলি একজন নাইজেরিয়ানের সঙ্গে বাসা শেয়ার করতেন। 

তিনি নাকি, ওই নাইজেরিয়ান নাগরিক নিষিদ্ধ মারিজুয়ানা রেখেছিলেন, সে সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকায় ইন্দোনেশিয়া সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। জাকার্তার রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তৃত তদন্তে নামবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের চাওয়া এবং ইন্দোনেশিয়া সরকার প্রতিশ্রুত সেই রিপোর্ট ঢাকায় পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছে সেগুনবাগিচা। উল্লেখ্য, গৃহকর্মী নিখোঁজের দায়ে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধে কাজী আনারকলিকে লসঅ্যানজেলেস থেকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিল ঢাকা। মার্কিন সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তাকে জাকার্তায় জরুরি পদায়ন করা হয়েছিল এবং  ইন্দোনেশিয়ার ভিসা পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।