যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলেও চাকুরী ও বেতন বেশী পাওয়া যায়- জেলা প্রশাসক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলেও চাকুরী ও বেতন বেশী পাওয়া যায়- জেলা প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মমুখী করে বেকারত্ব মুক্ত সমাজ গড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা তৈরি করে হাজার হাজার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করছে সংস্থাটি। 

সোমবার (২৫শে জুলাই), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত 'ঢাকা জেলা কর্তৃক আয়োজিত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন, ভাতা ও সনদপত্র বিতরণ এবং আত্মকর্মীদের সাথে মতবিনিময় ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান' এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, বেকার যুবকরা চাকুরী না পেলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে যে কোন একটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ দিচ্ছে সরকার। প্রশিক্ষনার্থী এসব যুবকরা তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রকল্প স্থাপন করে নিজের কর্ম নিজেই তৈরির পাশাপাশি অন্য বেকার যুবকদের তাঁর প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরী করে দিচ্ছে।

ঢাকা জেলায় ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রি-ল্যান্সিং, ভিডিও এডিটিং সহ অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ নিয়ে কোন যুবকের বেকার থাকতে হবে না জানিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলেও চাকুরী ও বেতন বেশী পাওয়া যায়। এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও দক্ষ জনবলের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক বিরাজ চন্দ্র সরকার বলেন, বেকার যুবকদের আমরা শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েই কাজ শেষ করি না। প্রশিক্ষনার্থীরা উদ্যোক্তা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এদের পেছনে লেগে থাকি। আমরা চাই প্রশিক্ষণ পাওয়া সবাই উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করি। 

প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্যেশে বিরাজ চন্দ্র সরকার বলেন, আপনারা প্রশিক্ষণ নিয়ে বসে থাকবেন না। যেখানেই সার্কুলার হবে আবেদন করবেন, প্রয়োজনে আমাদের সাহায্য নিবেন। আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করবো। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইলিয়াস মেহেদী বলেন, বাংলাদেশ এখন যুব শক্তিতে পরিনত। এই শক্তিকে আমরা কাজে লাগাতে না পারলে পিছিয়ে আমরা।

পোষাক তৈরী, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রীণ প্রিন্টিং, ফ্যাশন ডিজাইন, ওভেন স্যুইং, কম্পিউটার বেসিক, গ্রাফিক্স ডিজাইন, মর্ডাণ অফিস ম্যানেজমেন্ট
এন্ড কম্পিউটার এ্যাপ্লিকেশসন, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিকাল মার্কেটিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, ফ্রিল্যান্সিং, মৎস্য চাষ, গবাদি পশু, হাস-মুরগী পালন (আবাসিক), ক্যাটারিং, হাউজ কিপিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড হাউজ ওয়ারিং,
রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং, ইলেকট্রনিক্স  ট্রেডে ঢাকা জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর চলতি অর্থ বছরে ৮৭৫০ জনকে বিভিন্ন কর্মমূখী প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।।

১৮-৩৫ বছর বছর বয়সি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ১০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করে থাকে। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্প স্থাপনের জন্য ঋণ প্রদানও করে।

যুব কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য
জেলা পর্যায়ে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচ  ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
পুরষ্কার প্রাপ্তরা হলেন- পায়েল আক্তার নূপুর-(স্ক্রীন প্রিন্ট) হ্যান্ডিক্রাফট্স এন্ড ডিজাইন, আলিউর কবির- (ফ্রিল্যান্সার), জান্নাতুল আফরোজ সুমি- (জে. আফরোজ হস্তশিল্প কেন্দ্র), মোঃ তরিকুল ইসলাম, মাসুদ আলম- (ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিঃ), প্রীতি ইসলাম পারভীন- (প্রীতি যুব কল্যান সংস্থা), মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ- (ঢাকা ইয়ুথ ক্লাব), লতিফা আক্তার-(রূপকথা যুব মহিলা উন্নয়ন সংস্থা)।