রাঙ্গুনিয়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই, বাড়ছে আ্যনথ্রাক্স রোগের শংকা

রাঙ্গুনিয়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই, বাড়ছে আ্যনথ্রাক্স রোগের শংকা
ছবিঃ সংগৃহীত
এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। ১৭ আগস্ট, মংগলবার।। 
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সবগুলো হাট-বাজারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চলছে যত্রতত্র গবাদিপশু জবাই। এসব হাট-বাজারের কোথাও সুনির্দিষ্ট কোনো জবাইখানা নেই। এতে অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু জবাইয়ের ঝুঁকি যেমন রয়েছে তেমনি পশুর বর্জ্যে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ফলে মশা, মাছিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ। 
অথচ, পশু জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্ব উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কর্তৃক দেখভাল করার কথা থাকলেও উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে তাদের কোন তদারকি নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশে অ্যানথ্রাক্স রোগের (গরুর তড়কা রোগ) প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও রাঙ্গুনিয়ার হাট-বাজারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গরু-মহিষ ও ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অধিকাংশ কসাই অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু-ছাগল রাতের অন্ধকারে জবাই করে ভোরে মাংস দোকান তা টাঙিয়ে বিক্রি করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা সদর রোয়াজারহাট, দোভাষি বাজার, রানীরহাট, পদুয়া বাজার, শান্তিরহাট, গোচরা বাজার, ধামাইরহাট, মোগলেরহাট, রাজারহাট, ক্ষেত্রবাজার, মরিয়মনগর বিয়ান বাজার ও কোদালা বাজার ও আলমশাহ বাজারে প্রতিদিন গরু-মহিষ ও ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়। এসব বাজারে কোনো জবাইখানা না থাকায় হাট-বাজারের আশেপাশের স্থানে যে যেখানে পারছেন সেখানেই পশু জবাই করে উচ্ছিষ্ট মাংস, রক্ত, গোবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখছেন। আর এসব বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকার সর্বত্রে। মশা-মাছির মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে এসব বর্জ্যের বিষাক্ত জীবাণু। এতে সারা বছর হাঁপানি, জন্ডিস, যক্ষ্মা, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন হাট-বাজারের আশপাশে বসবাসকারী মানুষেরা।
এদিকে হাট-বাজার পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষেরা রোগাক্রান্ত হলেও আজ অবধি রাঙ্গুনিয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
ধামাইরহাটের মাংস বিক্রেতা রফিক সওদাগর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাটে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাইখানা তৈরি হয়নি। তাই যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানে পশু জবাই করে বর্জ্য ফেলা হয়।’ গবাদিপশু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে তাঁদের তেমন কিছু জানা নেই বলে তিনি জানান। 
আলমশাহ বাজারে জফুর সওদাগর বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স সম্পর্কে শোনা গেলেও সেটা কী রকম রোগ আমার জানা নেই।’ তবে অ্যানথ্রাক্স রোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতারা গরুর মাংস কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।'
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সরকারের বিশেষ সতর্কতা (রেড এলার্ট) রাঙ্গুনিয়ায় বলবৎ রয়েছে। উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টি ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১২ হাজার গরুকে প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উপজেলার কোনো হাট-বাজারে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাইখানা নেই। ফলে জবাইয়ের আগে গবাদিপশুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।’ তবে রাঙ্গুনিয়ায় এখনো কোনো অ্যানথ্রাক্স রোগাক্রান্ত গবাদিপশু, পাখি ও মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। 
সরেজমিনে উপজেলার রোয়াজারহাট, রানীরহাট ও ধামাইরহাট, শান্তিরহাট বাজারের মাংসের দোকান পরিদর্শন ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ায় যেসব গরুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে সবই গৃহপালিত। কিন্তু হাট-বাজারে যেসব গরু জবাই করা হয় তার সবই ভারতসহ উত্তর বঙ্গের। আর এসব গরুই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতেখার ইউনুস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স রোগ প্রতিরোধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া গবাদিপশু জবাইয়ের বিরুদ্ধে উপজেলার সব হাট-বাজারে অভিযান চালানো হবে। পশু জবাইয়ের আগে পশুসম্পদ কার্যালয়ের ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়ে মাংস বিক্রেতাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।' 
তিনি আরও বলেন, 'যত্রতত্র গবাদিপশু জবাই না করে সুনির্দিষ্ট জবাইখানায় পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যাপারেও কসাইদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।'
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, ‘যত্রতত্র ও খোলা পরিবেশে পশু জবাইয়ের কারণে হাট-বাজারের আশপাশের এলাকায় হাঁপানি, জন্ডিস, যক্ষ্মা, আমাশয় ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।'