রাজাপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে আয়রন ব্রীজের মালামাল লুটের অভিযোগ

রাজাপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে আয়রন ব্রীজের মালামাল লুটের অভিযোগ

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুরে ইউপি
চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে আইরন ব্রীজের মালামাল লুটপাটের অভিযোগ
পাওয়া গেছে। উপজেলার মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি মো.
শাহজালাল আহম্মেদ, তার সহযোগী সুমন, ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন তারা, সবুর
ফকির ও মহিলা সদস্য তাজেদা বেগম এর স্বামী মো. বাবুল গাজীর বিরুদ্ধে এ
অভিযোগ। পূর্বে ব্রীজটি নতুন নির্মানে টেন্ডার হওয়ার সংবাদ পেয়েই পুরাতন
ব্রীজের মালামাল লুটপাট করায় গত দুই মাস এলাকার সাধারন মানুষ, ব্যবসায়ী,
ছাত্র-শিক্ষক সকলেই চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।
    উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানাগেছে, ভেঙ্গে ফেলা ঐ আইরন ব্রীজের
টেন্ডার হলেও এখন পর্যন্ত কাজের কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। ব্রীজ ভাঙ্গার
বিষয় তাদের কাছে কোন তথ্য ছিল না। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার
উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রীজ ভেঙ্গে ফেলার সত্যতা পান ও
ব্রীজের কিছু মালামাল উদ্ধারসহ পরিমাপ করে স্থানীয়দের জিম্মায় রেখে আসেন।
    সরেজমিনে মুক্তিযোদ্ধা বাবুল খলিফা, বেলায়েত হোসেন, নান্না তালুকদার,
সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মিলন জানায়, গত দুই মাস পূর্বে মঠবাড়ি
ইউনিয়নের ডহরশংকর গ্রামের একটি আয়রন ব্রীজ টেন্ডার হওয়ার কথা শুনে ইউপি
চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি জালাল আহম্মেদ এর নেতৃত্বে ভেঙ্গে ফেলা
হয়। পরে ঐ ব্রীজের মালামাল চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী সুমন সহ নাসির
উদ্দিন, মহিলা মেম্বরের স্বামী মো. বাবুল গাজী ও সবুর ফকির তাদের নিজেদের
মধ্যে ভাগ-ভাটোয়ারা করে সময় বুঝে নৌকা ও পিকআপ করে মালামাল সরিয়ে ফেলে।
    স্থানীয়রা আরো জানায়, কাজের অনুমতি ছাড়াই দুই মাস পূর্বে এই ব্রীজটি
ভেঙ্গে ফেলায় তারা বর্তমানে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে ঐ
ইউনিয়নের একাংশের প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ব্যবসা-বানিজ্য, রোগী
নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতে তাদের প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ
পোহাতে হচ্ছে।
   ব্রীজের ইট বহন করা পিকআপ চালক মো. নাসির হোসেন জানায়, মঠবাড়ি ইউপি
চেয়ারম্যান জালাল আহম্মেদ, ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বাবুল গাজীর
নির্দেশনা অনুসারে চার গাড়ি ইট বহন করে তাদের দেখানো স্থানে পৌছে দেই।
    মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নাসির উদ্দিন তারা তার
বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ব্রীজের আশে-পাশের প্রত্যেকটি
বাড়িতে ব্রীজের মালামাল রয়েছে। রাস্তায় কাঁদা থাকায় সেখানে দেয়ার জন্য
আমি শুধু এক গাড়ি ইট নিয়েছি।
   মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল আহম্মেদ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
অস্বীকার করে বলেন, ব্রীজের সব মালামাল আমি রুমের মধ্যে জমা রেখেছি। পরে
সরকারের কাছে জমা দিব। ইট মানুষে নিয়ে গেছে। দুই-এক খান ইট যদি রাস্তায়
দেয়া হয় তা কি অপরাধ?
   উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, চোরেতো চুরি করবেই। খবর পেয়ে
ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রীজের মাল জব্দ করি। এ ঘটনায় ডাইরী করতে থানায়
গিয়েছিলাম কিন্তু ওসি সাহেব ডায়রী নেয়নি। সে আগে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে
তদন্ত করার কথা বলেছেন।