রাতের আঁধারে বাড়ীতে গিয়ে ডাব বিক্রেতার কাছে ক্ষমা চাইলেন সেই টিআই

রাতের আঁধারে বাড়ীতে গিয়ে ডাব বিক্রেতার কাছে ক্ষমা চাইলেন সেই টিআই
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার,১৫ অক্টোবর।। মারধরের শিকার ডাব বিক্রেতার বাড়ীতে রাতে আধাঁরে গিয়ে আহতের পরিবার থেকে ক্ষমা চাইলেন সেই বির্তকিত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর টিআই আমিনুর রহমান।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) দিনগত রাত দেড়টার সময় ওই টিআই আমিনসহ পুলিশের তিন সদস্য ও বেশ কিছু পরিবহণ নেতা তার কলাতলিস্থ বাড়ীতে উপস্থিত হন।
এসময় হাত জোর করে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়াও সেই দিনের ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হন। ওই সময় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন দেন টিআই আমিন। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের কলাতলি ডলফিন মোড়ে ডায়নামিক বক্স কিংডম এর সামনে পূর্বের পাওনা পরিশোধ না করে আবার নতুন করে বাকী চাওয়ার পর বাকী না দেওয়ায় ক্ষুদ্র ডাব বিক্রেতা মো. শরীফকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আমিনুর রহমান।
বুধবার (১৩ অক্টোবর ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কলাতলি ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ভিতর ডেকে নিয়ে এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর আহত মো. শরীফ টাকার অভাবে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেনি, তবে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে কিছু ওষুধ কিনে সেবন করেছে। তার শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্নগুলো স্পষ্ঠই ভেসে উঠেছে। আহত শরীর নিয়ে ডাব বিক্রি অব্যাহত রেখেছে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
মারধরের শিকার মোঃ শরীফ (৩৮) কক্সবাজার সদরের মধ্যম কলাতলি এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়ার ছেলে।
ক্ষুদ্র ডাব ব্যবসায়ী মো. শরীফের মতো অনেকে বলেন, কলাতলি ডলফিন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত কক্সবাজার শহর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শাখার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. আমিনুর রহমান ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ডাব, ডিম, চা, সিগারেটসহ বিভিন্ন পন্য ক্রয় করে টাকা বাকী রাখেন। এমনকি ডাব খেয়ে টাকাও দেন না। পাওনা টাকা চাইলে তিনি তালবাহানা করতে থাকেন।
ডাব বিক্রেতা মো. শরীফ জানান, বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় টিআই মো. আমিনুর রহমান বাকীতে ডাবের জন্য কলাতলি ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশের দোকানী রায়হানকে আমার কাছে পাঠান। 
কিন্তু তিনি ডাব বিক্রির আগের পাওনা গুলো পরিশোধ না করে, বা বিনা পয়সায় ডাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। ওই সময় ডাব না নিয়ে বক্সের ফিরে যান রায়হান। পরে বক্সে নিয়োজিত কনস্টেবল দিদার ও রহিম নামের যুবককে দিয়ে ডাকা পাঠান টিআই আমিন।
ডাব বিক্রেতা মো শরীফকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ডেকে নিয়ে সেখানে কোন কথা ছাড়াই বুটজুতা দিয়ে লাথি এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। টিআই আমিন নির্দয়ভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পেটালেও কেউ তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি। আহত শরীফ টাকার অভাবে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেনি। তবে পাশ্ববর্তী ফার্মেসি থেকে সামান্য ওষুধ কিনে শরীরের ব্যথা নিবারনে চেস্টা করেছে মাত্র । 
তিনি আরও জানান, পুলিশের পিটুলি খেয়ে তার শরীরে ব্যথা, হাতের আঙ্গুল ও পা ফুলে গেছে। ব্যথায় শরীর না চললেও ডাব বিক্রি বন্ধ করেনি। কারণ ডাব বিক্রি না করলে বাসায় সন্তান সন্ততি না খেয়ে থাকবে।
এঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠে। বিরাম করে চাপাক্ষোভ ও উত্তেজনা। সারাদিন ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা করেন টিআই।
এদিকে, আহত মো. শরীফ সহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পরিবহণ নেতা জানান , বুধবার দিনগত রাত ১টার দিকে অভিযুক্ত টিআই আমিনুর রহমানসহ ট্রাফিক পুলিশের একটি দল আহত ডাব ব্যবসায়ীর বাড়িতে যান। সেখানে ডাব ব্যবসায়ীর সাথে এধরনের আচরণে অনুশোচনা করেন টিআই আমিন, ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আহত ডাব বিক্রেতা শরীফ ও তার পরিবারের কাছ থেকে ক্ষমা চান।
এব্যাপারে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমান বলেন, ডাব বিক্রেতার সাথে সামান্য ভূলবুঝাবুঝি হয়েছিল, তা মিটমাট করা হয়েছে।