রংপুর আবহাওয়া অফিসের রাডার নষ্ট এক যুগ, পূর্বাভাস দেওয়া হয় তথ্য সমন্বয় করে

রংপুর আবহাওয়া অফিসের রাডার নষ্ট এক যুগ, পূর্বাভাস দেওয়া হয় তথ্য সমন্বয় করে

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ করেসপনডেন্ট।। রংপুর আবহাওয়া অফিসের রাডারটি অকেজো হয় প্রায় এক যুগ আগে। অথচ এত বছরেও সেটি মেরামত বা নতুন রাডার স্থাপন করা হয়নি। প্রধান কার্যালয়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করে এখন পূর্বাভাস দেয় স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। সেই তথ্যও যথাসময়ে মেলে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগও বাড়ছে এই অঞ্চলে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ, অসময়ে কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সারাদেশে খাদ্য সরবরাহ করা এ অঞ্চলের কৃষক। কৃষিনির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিও পড়েছে মহাসংকটে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, নগরীর কলেজ রোড মাস্টারপাড়া এলাকায় ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনে আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন করা হয়। জাপান সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৯ সালে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে রাডার স্থাপন করা হয়। রাডারটির আয়ুস্কাল ছিল ১০ বছর। তবে ২০০৭ সালের দিকেই ত্রুটি ধরা পড়ে। স্থানীয় প্রকৌশলীদের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ২০১২ সাল পর্যন্ত রাডারটি সক্রিয় রাখা সম্ভব হয়।

আরও জানানো হয়, রংপুরে আধুনিক রাডার স্থাপনের একটি বিল একনেকে পাস করেছে সরকার। জাপানের অনুদানে প্রায় ১২০ কোটি টাকায় রাডারটি প্রতিস্থাপনের কথা ছিল। তবে ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারীতে জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যাকাণ্ডের পর দেশটির প্রকৌশলীরা আর রংপুরে যাননি। সেই থেকে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ের তথ্য সমন্বয় করে এখানে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

রংপুর নগরীর বাহার কাছনার কৃষক ফিরোজ মিয়া বলেন, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রংপুর বিভাগে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হয়। এতে তার আলুক্ষেতে পানি জমে সব গাছ মারা যায়। তিনি শিলাবৃষ্টির তথ্য আগে পেলে বীজ আলুগুলো তুলে ফেলতে পারতেন। এত ক্ষতিও হতো না। গঙ্গাচড়া উপজেলার চর শংকরদহের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে বর্ষাকালে বৃষ্টি হতো, আমরা বর্ষার কথা চিন্তা করে ফসল আবাদ করতাম। কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়া এমন হয়েছে, কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার সময় থাকে না।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। তাই ক্লাইমেট সার্ভিস নামে একটি সেবা চালু করা এখন সময়ের দাবি। এই সেবার মাধ্যমে কৃষকসহ প্রত্যেক মানুষ এক সপ্তাহের আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নিতে পারবে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুরে নতুন ডপলার রাডার স্থাপন করা হবে। গাজীপুর আবহাওয়া কার্যালয়ে রাডারের কাজ চলছে। চলতি বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে রংপুর কেন্দ্রে রাডার স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রাডার স্থাপন হলে মেঘের অবস্থা, মেঘের গতিবিধি, তাপমাত্রা, বৃষ্টি, ভূমিকম্পন ও বড় ধরনের বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের তথ্য সঠিক সময়ে পাওয়া যাবে।