রংপুরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

রংপুরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ করেসপনডেন্ট।। রংপুরে জমতে শুরু করেছে ঈদের বাজার। দোকান ও শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। করোনা মহামারিতে দু'বছর পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।

পোশাকের পাশাপাশি জুতা, কসমেটিকস ও জুয়েলারি দোকানগুলোতেও ভিড় বেড়েছে। নজরকাড়া বাহারি ডিজাইন ও রকমারি পোশাকে ছেয়ে গেছে ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলো। তবে বাজারে বিভিন্ন রকমের পোশাক এলেও দাম বেশি বলে জানান ক্রেতারা।

নগরীর সুপার মার্কেট, জাহাজ কোম্পানি শপিংমল, জেলা পরিষদ কমিউনিটি মার্কেট, গোল্ডেন টাওয়ার মার্কেট, মোস্তফা সুপার মার্কেট, সেন্ট্রাল রোড, মতিপ্লাজা, সিটি প্লাজা, ছালেক মার্কেট, হাড়িপট্টি রোড ও তালতলা রোডসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রতিবারের মতো এবারের ঈদ বাজারেও তরুণীসহ নারীদের প্রধান আকর্ষণ নতুন কালেকশন। তবে পিছিয়ে নেই ছেলেরাও। তারাও মজেছেন দেশি-বিদেশি জিন্স, শার্ট আর পাঞ্জাবিতে।

রংপুর সুপার মার্কেটে এসেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘সাড়ে চার হাজার টাকায় থ্রি-পিস কিনেছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে।’

ওই মার্কেটের দোকানি সোহেল মিয়া বলেন, ‘আমরা বেশি দামে পোশাক কিনছি তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

জাহাজ কোম্পানি শপিংমলে ১২৪০ টাকা দিয়ে একটি জিন্স প্যান্ট কিনেছেন শিক্ষার্থী ফাইয়াদ। তিনি বলেন, ‘এখন পাঞ্জাবি খুঁজছি। পছন্দ হলেই কিনে নেবো।’ এবার কাপড়ের দাম বেশি বলেও জানান ফাইয়াদ।

সেন্ট্রাল রোডের কাপড় বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কাপড় কিনতে হচ্ছে। এবার প্রতি শাড়িতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছালেক মার্কেটের সিনহা গার্মেন্টসের মালিক মাইদুল ইসলাম সনি বলেন, ‘সুতাসহ আনুষঙ্গিক সবকিছুর দাম বেড়েছে। মোকাম থেকে কাপড় কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। তবে এবার দাম একটু বেশি হলেও বিক্রি মোটামুটি সন্তোষজনক।’

মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে পোশাক বিক্রি হচ্ছে। অভিজাত মার্কেটগুলোতে থ্রি-পিস, শিশুদের জামা, শার্ট, জিন্স ও শাড়ি সর্বনিম্ন এক হাজার থেকে শুরু করে ৫-৭ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফুটপাতসহ সাধারণ দোকান ও মার্কেটগুলোতে ৩০০ থেকে হাজার টাকার মধ্যে নানা ধরনের পোশাক মিলছে। সাধ্য অনুযায়ী ক্রেতারাও ছুটছেন বিভিন্ন স্থানে।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, শহর ও আশপাশে এলাকায় ছোট-বড় মিলে প্রায় তিন হাজার পোশাক, জুতা ও কসমেটিকের দোকান রয়েছে। করোনা মহামারিতে দুই বছর এখানকার ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখেননি। তবে এ বছর সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ব্যবসায়ীরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা যায়।