রংপুরে তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়, লণ্ডভণ্ড গ্রামের পর গ্রাম

রংপুরে তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়, লণ্ডভণ্ড গ্রামের পর গ্রাম
রংপুরে কালবৈশাখীর তান্ডব

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ করেসপন্ডেন্ট।। রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। এতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে বদরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগঞ্জের পাঁচটি গ্রাম। এছাড়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আম, ভুট্টা, গম, ধানসহ উঠতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। 

কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আঘাতে ঘর-বাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি উড়ে গেছে স্থাপনা। তবে বৃষ্টির পানির চেয়ে শিলার তোপে মাটিতে নুয়ে পড়েছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত। 

মঙ্গলবার রাত ৯টার পর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। কৃষি বিভাগ ও আবহাওয়া অধিদফতর এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি।

জেলার পীরগঞ্জের বড় আলমপুর ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামদাসের পাড়া, ষোলঘড়িয়া ও তামালপুর গ্রামে ঝড়ে গাছ-পালা উপড়ে পড়ে, মাটির বাড়িঘর ভেঙে যায়। কারো কারো ঘরের চাল উড়ে গেছে। ধসে পড়েছে বাড়ির দেয়ালও। ক্ষতি হয়েছে ধান, ভুট্টা, আম ও কলাগাছের।

বড় আলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সেলিম বলেন, রাতে ঘূর্ণিঝড় থেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছি। প্রায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে তালিকা করে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে। 

পীরগঞ্জ ছাড়া কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়।  

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমগাছে আসা গুটি ঝরে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় আধাপাকা ও পাকা গম, ধান আর ভুট্টা মাটিতে শুয়ে পড়েছে। হাড়িভাঙ্গা আমের জন্য বিখ্যাত মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ, পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জের শ্যামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান জানান, মঙ্গলবার রাকে জেলার বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যন্ত এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল ৫০ মিনিট। এ সময় ৭ দশমিক শূন্য মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের পাশাপাশি বাতাসের বেগ বেশি ছিল। আগামী দুই একদিন রংপুর অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে।