রংপুরে ব্যতিক্রমধর্মী রেস্টুরেন্ট 'কারাগার'

রংপুরে ব্যতিক্রমধর্মী রেস্টুরেন্ট 'কারাগার'

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ করেসপনডেন্ট।। জেল হাজত, কয়েদি নম্বর, আসামি বসার স্থান ও ফাঁসির মঞ্চ সবকিছুই রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। প্রথম দেখায় যে কারও মনে হবে এটি একটি মিনি কারাগার। ব্যতিক্রমধর্মী এই রেস্টুরেন্ট ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এটির নামও দেওয়া হয়েছে কারাগার রেস্টুরেন্ট। এখানে অন্যান্য রেস্টুরেন্টের মতই সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়।

রেস্টুরেন্টটিতে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে দরজার ডান পাশে একটি ফাঁসির মঞ্চ। সেখানে ঝোলানো রয়েছে একটি ফাঁসির দড়ি। ফাঁসির মঞ্চের ওপরে বড় করে লেখা ‘বিদায় মঞ্চ থেকে বলছি।’ রেস্টুরেন্টটির শেষ মাথায় রয়েছে একটি মিনি কারাগার। কারাগারের দরজার ওপরে লেখা ‘জেল থেকে বলছি’। কারাগারটির ভেতরে রয়েছে মেঝেতে বসার স্থান, একটি ফ্যান ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘কয়েদি নাম্বার ৪২০’, ‘কয়েদি নম্বর ৭৮৬’, ‘থালাবাটি কম্বল জেলখানার সম্বল’, ‘আইনের চোখে সবাই সমান’, ‘ভিআইপি গুন্ডা’ ইত্যাদি লেখা রয়েছে।

ফাঁসির মঞ্চ ও কারাগারের মাঝখানে রয়েছে বসার স্থান। এখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। এ রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায়, ভাত, পোলাও, বিভিন্ন ধরনের মাছ ও মাংস, খিচুড়ি, বিরিয়ানি ও হালিম।

রেস্টুরেন্টে আসা শাহজাহান মন্ডল বলেন, ফেসবুকে কারাগারের ছবি দেখে দেখতে এসেছি। রেস্টুরেন্টে এ রকম কারাগার, ফাঁসির মঞ্চ আছে এটা ব্যতিক্রম একটি বিষয়। কিছু ছবিও তুলেছি।

হোটেল বয় আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখন রমজান মাস দিনে বিক্রি হয় না। দিনে অনেকেই ছবি তোলার জন্যেই বেশি আসে। রাতে বিক্রি ভালোই হয়।

রেস্টুরেন্টটির মালিক রিপন মিয়া বলেন, আমি একজন উদ্যোক্তা। এর আগেও রংপুরে খাবার বিক্রি করেছিলাম। কিছুদিন আগে নতুন কিছু করার চিন্তা করি। তরুণরা নতুনত্ব পছন্দ করে। অনেকেই চোখ ধাঁধানো অনেক কিছু করে। আমিও এই কারাগার রেস্টুরেন্ট নাম দিয়েছি। নাম যেহেতু কারাগার দেওয়া হয়েছে তাই একটি কারাগার না থাকলে তো আর ভালো হয় না তাই ছোট আকারে একটি কারাগারও করেছি।

তিনি আরও বলেন, রেস্টুরেন্ট যদিও নতুন, তবুও প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছি। আশা করছি এটি পরিচিতি লাভ করলে আরও বেশি ক্রেতা পাব।