রমজানের আগেই লাগামহীন নিত্যপণ্য

রমজানের আগেই লাগামহীন নিত্যপণ্য
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি।। ১৮ মার্চ, বৃহস্পতিবার।। পবিত্র মাহে রমজানের আর মাত্র কিছু দিন বাকি। তার আগে অস্থির নিত্য পণ্যের বাজার। পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই বাজারে, বরং উর্ধ্বমূখী। এতে ক্রেতাদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। বেড়েই চলছে একের পর এক নিত্য পণ্যের দাম।
চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যেরই দাম বেড়েছে। অস্থির বাজারে নতুন করে বেড়েছে পেঁয়াজ ও মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুটি পণ্যের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১০-২০ টাকা। এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা লাগছে। বাম্পার ফলন, প্রচুর আমাদানি তারপরও অস্থির বাজার।
সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৭০ টাকা। ভালো মানের নাজিরশাইল চাল ৭০ টাকায়, মাঝারি মানের নাজিরশাইল চাল ৬৪ টাকায়, পাইজাম চাল ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায় ও পুরাতন ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা দরে। প্রতি কেজি চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। আর মোটা মসুর ডাল ৭৫-৯০ টাকায় ও মুগ ডাল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কালীঘাট ঘুরে জানা যায়, আতপ চালের আমদানি না হওয়া পর্যন্ত চালের বাজার অস্থিতিশীল থাকবে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জিম্মি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে দেশের কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গ্রুপ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চাল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকার চাল আমদানি করতে এলসি খুলে দিলেও সেই এলসিও তাদের নামে, তাই তাদের নির্ধারিত দামেই পণ্য কিনতে হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
চালের দাম বৃদ্ধির ব্যপারে জানতে চাইলে কালীঘাট চাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ জানান, সিলেট ও চট্টগ্রামে আতপ চালের চাহিদা বেশি। বর্তমানে বাজারে আতপ চালের সংকট রয়েছে। আতপ চাল আমদানি না হওয়া পর্যন্ত দাম এরকমই থাকবে। এদিকে, রমজানের অতি প্রয়োজনীয় তেলের দাম বাড়ছেই। গত কয়েক মাসে কয়েক দফায় তেলের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তেলের আমদানি না থাকায় বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৩৪ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার পাম ওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১০৪ টাকায়। রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কালীঘাটের এক ডিলার বলেন, সমুদ্র বন্দরে অপরিশোধিত তেলের তিনটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। এগুলো পরিশোধন করে আসতে কিছু সময় লাগবে। এগুলো নামলে তেলের দাম কিছুটা কমবে। তবে তা খুব শীঘ্রই হচ্ছে না।
তিন প্রকার ডিমের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির ডিম পাইকারিতে ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা দরে। আর খুচরা হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা দরে। অন্যদিকে হাঁসের ডিম খুচরায় হালিতে ৪৫-৫০ টাকায় ও দেশি মুরগির ডিম হালিতে ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, মুরগির দাম বেড়েই চলছে। প্রতি কেজি ব্রয়াল মুরগির দাম এখন ১৬০ টাকা। দুই মাস আগে ১২০ কেজিতে বিক্রি হত। পাকিস্তানী মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৭০ টাকা। লেয়ার মুরগি ২৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, বকরির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকা।
বাজারে সবজির মধ্যে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে। বাঁধাকপিও একই দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লাউ বিক্রি হচ্ছে পিস প্রতি ৪০-৫০ টাকায়। শিম প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকা (প্রকার ভেদে), মুলা ১৫ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজিতে। করলা ৭০ টাকা, বেগুন ৩০-৪০ টাকা (প্রকার ভেদে), শসা ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, গাজর ৩৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০-৭০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৪০ ও বরবটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া সাইজভেদে ৪০-১০০ টাকা এবং মৌসুমি শাক আঁটি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে।
সিলেটের বাজার কর্মকর্তা শাহ মো. মোরশেদ কাদের বলেন, রমজান মাসের আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা সরকার করছে। ইতোমধ্যে ১০ টাকার চাল বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। বাজারে পণ্য সংকট রয়েছে। তবে এই সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে চাল ও তেল আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আমরা কথা বলেছি। পণ্য আমদানি হলেই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।