রামুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ে পুলিশ নেই : আইনশৃঙ্খলা অবনতি, জনমনে উৎকন্ঠা

রামুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ে পুলিশ নেই : আইনশৃঙ্খলা অবনতি, জনমনে উৎকন্ঠা
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২০ জুন।। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলাধী দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ঈদগড়। এই অঞ্চলটি ক্রাইমজোন হিসেবেও যুগযুগ ধরে খ্যাতি রয়েছে। দেশীয় অস্ত্র তৈরি কারিগরদের বসবাসও ঈদগড়ে। চোর-ডাকাত আর অপরাধীদের উর্বর ভুমিও ঈদগড়। ব্যবসা বাণিজ্যেও পিছিয়ে নেই এলাকাটি।

ঈদগড়-ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে ডাকাতি, হত্যা ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে অহরহ।
ঈদগড় ইউনিয়নের জনগণকে নিরাপত্তা দিতে, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। গত কয়েক মাস আগে সেই পুলিশ ফাঁড়িটি আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে করে ঈদগড়ে জনসাধারণ চলাচলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক পথে নিরাপত্তাহীনতায় চলােফেরা করছে ঈদগড়, ইসলামাবাদ, ঈদগাঁও এবং বাইশারীর প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান জনগণকে সাথে নিয়ে রাত জেগে এলাকায় পালাক্রমে পাহারা বসিয়ে এলাকার মানুষকে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। 
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল রাতে ঈদগড়ে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির সকল সদস্যদের রহসয়জনক ভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সেই সময় থেকে পুলিশ ফাঁড়ি ও পানেরছড়া ঢালায় অবস্থিত পুলিশ বক্সটি অরক্ষিত অবস্থাশ পড়ে রয়েছে। প্রায় ৫০/ ৬০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত রামু থানা থেকে পুলিশ গিয়ে ঈদগড়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
বর্তমানে ঈদগড়ে ফাঁড়িতে পুলিশ না থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। শঙ্কিত হয়ে পড়েছে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ। যে কোন মুর্হুতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। 
ঈদগড়ে স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুল হক ও জহির উদ্দিন খন্দকার বলেন, ঈদগড় এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। এখানে কৃষিসহ রাবার শিল্পও রয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্যেও এগিয়ে। সরকারী হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। পাশাপাশি ডাকাত, অপহরণকারী চক্র সহ অপরাধীদের ডেরাও ঈদগড়।
শীঘ্রই ঈদগড়ে পুনরায় স্থায়ী ভাবে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে জনগণের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। 
ঈদগড়ে পুনরায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ঘোষণা করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করতে পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা।
ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো বলেন,গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় পুলিশ না থাকায় জনগণ আতংকে দিন যাপন করছে। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ইউপি সদস্য, চৌকিদারসহ এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে পানেরছড়া ঢালাসহ এলাকার সর্বত্রে পালাক্রমে পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন। 
ঈদগড়ে পুনরায় পুলিশ মোতায়েন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার ও রামু থানা ওসি’র প্রতি এলাবাসীর পক্ষে অনুরোধ জানান তিনি।