রামু খুনিয়াপালংয়ে ১০ জনের ইয়াবা সিন্ডিকেট : অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

রামু খুনিয়াপালংয়ে ১০ জনের ইয়াবা সিন্ডিকেট : অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, কক্সবাজার।। ০১ জুলাই, বৃহস্পতিবার।। কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব ধেছুয়াপালং মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় ১০ জনের সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদক ব্যবসায়ী চক্র রামু থানা ও উখিয়া থানার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এরা সহজে মাদক বিস্তারের জন্য দুই থানার সীমান্তকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি হোছন আহম্মদ বাদী হয়ে পুলিশ সুপারসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা যায়।
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্র মতে, মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে, রামু উপজপলার খুনিয়া পালং ইউনিয়ন পূর্বধেছুয়াপালয়ং মাদ্রাসা পাড়া এলাকার মৌলভী আবুল কাশেমের ছেলে আতা উল্লাহ (২২), উখিয়া থানাধীন হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পূর্ব মরিচ্যা ১ নাম্বার ওয়ার্ড এলাকার মোহাম্মদ সৈয়দের ছেলে মো. সাইফুল প্রকাশ কার্ড মলই (২৪), আব্দুর রশিদের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৪), উখিয়া হলদিয়া পালং ইউনিয়নে ২ নাম্বার ওয়ার্ড পাগলীর বিল গ্রামের মাহমুদুল হক মাদুর ছেলে মোহাম্মদ কাসিম প্রকাশ কানা কাসিম, মো.কালুর ছেলে হাকিম মিয়া (২৯) মোঃ সিরাজ প্রকাশ সিরাজ ডাকাত ( তালুকাভুক্ত ডাকাত)। তাদের সাথে আছে আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন।
সুত্রে আরো প্রকাশ, তারা দীর্ঘদিন ধরে খুনিয়া পালং ইউনিয়ন পূর্ব ধেছুয়াপালং মাদ্রাসা পাড়া এলাকার সিন্ডিকেট প্রধান আতাউল্লাহ এর বাড়িতে আশ্রয়ে থেকে ইয়াবা ব্যবসা সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের বিরুদ্ধে রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে গেছে। আতা উল্লাহ ও মোহাম্মদ কাসিম প্রকাশ কানা কাসিমের নেতৃত্বে গঠিত এই ইয়াবা কারবারি সিন্ডিকেট সরাসরি মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ইয়াবা এনে রামু থানা এলাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছে। কিন্তু এলাকার লোকজন তাদের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ১০ জনের ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়। তারা ইতোপূর্বে একাধিক নিরীহ লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা এক সময় দিনমজুরসহ শ্রমিকের কাজ করত। বর্তমানে তারা ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন। আর তারাই এলাকায় যুবসমাজকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাদের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা মাদকের করাল গ্রাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। উক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে বর্তমানে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারছেনা।
উক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে মাদক ব্যবসাসহ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে ধাবিত হবে।
পূর্ব ধেছুয়াপালং মাদ্রাসা পাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি ও মেম্বার পদপ্রার্থী হোছন আহম্মদ বলেন, এদের অত্যাচারসহ অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। ইয়াবা কারবারি, অস্ত্র ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের' বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। 
তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষে আমি
বাদী হয়ে পুলিশ সুপারসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।