রামু ধেছুয়াপালংয়ে বসতবাড়ী দখলের চেষ্টা ও ভাংচুর : তিন নারীসহ আহত-৪

রামু ধেছুয়াপালংয়ে বসতবাড়ী দখলের চেষ্টা ও ভাংচুর : তিন নারীসহ আহত-৪
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার প্রতিনিধি।। রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব ধেছুয়ায় তান্ডব চালিয়ে বসতভিটা দখলে নিতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। এসময় এলোপাতাড়ি মারধরে তিন নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছে। 

আহতরা পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ সহায়তা চাইলে রামু থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুর্বৃত্তদের কবল থেকে আহতদের উদ্ধার করে। 
জানা গেছে, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ধেছুয়াপালং ৪নং ওয়ার্ডের মৃত শহর মল্লুকের ছেলে আবদুল কাদের (৪৫) এর সাথে একই এলাকার মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মো. ইসলাম ও নুরুল ইসলামদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এবিষয়ে আদালতে অপর মামলা নং- ২৪৪/২০২০ (তাং-১৪/১২/২০২০) ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালত কক্সবাজার থেকে আবদুল কাদেরের পক্ষে রায় ডিগ্রি প্রদান করেন। এছাড়াও উক্ত জমিতে উল্লেখিত মামলার বিবাদী মো. ইসলামগংদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ দিয়ে বারিত করেন।
আদালত থেকে রায় ডিগ্রি আদেশ দেয়ার পর থেকে মো. ইসলামগং ওই জমির মালিক আবদুল কাদের ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে মারধর ও তাদের স্বত্ত্ব দখলীয় জমি অবৈধ দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল।
জমির মালিক আবদুল কাদের জানান, গত ৯ মে রাতে পাশ্ববর্তী আমার বোনের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছিলাম।
৯ মে সকাল সাড়ে ৫ টার সময় ঘুম থেকে উঠে দেখি, মো. ইসলাম, নুরুল ইসলাম, মো. মীর কাশেম,লায়লা বেগম, রেহেনা আকতার সহ একদল সশস্ত্র রোহিঙ্গা নিয়ে নিয়ে আমার বসতবাড়ীর উঠানে এসে
পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বসততবাড়ীর বাউন্ডারি দেয়াল ভাংচুর করে।
বাড়ীর ভিতর ঢুকে সেমিপাকা ঘরের সামনের টিন তুলে ফেলেন, ঘরের আসবাপত্র ভাংচুর,  কাঠ ও বাঁশের নতুন বাড়ী তৈরি করেন।
এতে বাঁধা দিতে গেলে আবদুল কাদেরকে এবং তার ভাগ্নি ফাতেমা বেগম, ভাগ্নি মঞ্জুরা বেগম ও তার স্ত্রী খুরশিদা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। ওই সময় আহত আবদুল কাদের জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করে সাহায্য চান।
পরে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং আশ পাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে। 
তিনি আরও জানান, রামু থানা পুলিশে আসতে দেখে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হত্যা করে লাশ গুম করা ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত আবদুল কাদের আরও বলেন, সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা প্রায় ৩ (তিন) লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। 
এদিকে, আহতরা চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে হামলাকারী উল্টো আহতদের বিরুদ্ধে রামু থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। 
স্থানীয় পূর্ব ধেছুয়া পালন বাসিন্দা মো. হোসেন, শাহ আলম, রাসেল, বাদশা মিয়া, আমানত উল্লাহ, গিয়াস উদ্দীন বাবুল, 
মো রশিদ, আবদুর রহমান, সাহাব উদ্দিন জানান, মো. ইসলামের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ও   মহেশখালী থেকে আনা দুর্বৃত্তরা হামলা চালানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দখলবাজরা পালিয়ে যায়।একই কথা জানালে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবু তাহেরও একই কথা জানান।

রামু থানার এসআই কাউসার বলেন, মীর কাশেম একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবিষয়ে উভয় পক্ষ নিয়ে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু আবদুল কাদেরগং থানায় উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী মীর কাশেম উপস্থিত হয়নি।