রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ’প্রতিবাদে সৈয়দপুর পৌর পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ’প্রতিবাদে সৈয়দপুর পৌর পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

জাহিদুল হাসান জাহিদ।স্টাফ রিপোর্টার।। সৈয়দপুর পৌর বাজারে ২৫.৭৫ একর জমির দালান কোঠা বিল্ডিং প্ল্যানের মাপ দেখানোর নামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে পৌর পরিষদের সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

শনিবার(২অক্টোবর)সকাল ১১ টায় সৈয়দপুর পৌর হল রুমে মেয়র রাফিকা আখতার জাহান বেবির সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মেয়র রাফিকা জাহান বেবি লেখিত বক্তব্যে বলেন,দীর্ঘদিন হতে রেল কর্তৃপক্ষের সহিত পৌর বাজারের হস্তান্তরকৃত ২৫.৭৫ একর জমির দ্বন্দ চলে আসছে।রেল কর্তৃপক্ষ রেলওয়ে বাজার হস্তান্তর বিষয়ে তাহা অবৈধ মর্মে ঘোষণার দাবীতে মোকাদ্দমা করেন,যাহা পৌরসভার পক্ষে আপীল আদালতে রায় হয়।অতঃপর তাহারা পৌরসভার বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ কোটি টাকা আদায়ের দাবীতে ০২/০৫ এক মানি সুট মোকাদ্দমা আনয়ন করেন এবং উক্ত মোকাদ্দমা দোতরফা ভাবে ২০/১০/২০১১ তারিখে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে এবং পৌরসভার পক্ষে রায় ও ডিক্রী হয়।আবার স্বত্ব সাব্যস্ত পূর্বক খাস দখলের দাবীতে এক অন্য ১৭/০৯ মোকাদ্দমা করেন।উক্ত মোকাদ্দমা দোতরফা সূত্রে রেলের বিরুদ্ধে এবং পৌরসভার পক্ষে ২৫/০৪/২০১৮ তারিখে রায় ও ডিক্রী হয়।উক্ত মোকাদ্দমা আপীল কেসে পৌরসভার(appear) দৃষ্টিগোচর হয়েছে।শুনানী হয়নি।

মেয়র বলেন, এভাবে একের পর এক মামলা দিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৌরসভাকে হয়রানী করাসহ অহেতুক অর্থ ব্যয় করাচ্ছে। যা সম্পূর্ণরূপে অন্যায় ও অধিকার বহির্ভূত। অথচ ১৯৭৯ সালে ১৪.০২ একর রেলওয়ে বাজারের জমির বাবদ একটি লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট হয়। যা ১৯৮৩ সালের বাংলাদেশ রেলওয়ে (রিপিল) অর্ডিন্যান্স দ্বারা বাতিল হয়। ওই অধ্যাদেশ ২ এর সি ধারায় বলা আছে রেলওয়ের সাথে সকল এগ্রিমেন্ট বা চুক্তি বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি বা এগ্রিমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, ইতোপূর্বে বাংলাদেশ সরকারের এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেলওয়ের যেসব হাট-বাজার পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন এলাকাধীন তা সংশ্লিষ্ট সিটি বা পৌরসভায় হস্তান্তর করা হয়। সেমতে ১৯৮৫ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ের ২৫.৭৫ একর জমি ও তার উপরিস্থিত দোকান ঘরের দখল বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক বুঝে নেন। উক্ত পরিমাণ জমি ও দোকানের দখল পৌরসভার বরাবর হস্তান্তর করেন এবং ইহার মালিকানা ভুমি মন্ত্রণালয়ের বরাবর ন্যাস্ত করেন। ওই হস্তান্তরপত্রে পৌরসভাকে যাবতীয় অধিকার তথা লাইসেন্স প্রদান-নবায়ন, রেন্ট ও টোল আদায় অর্থাৎ সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

পৌর মেয়র অভিযোগ করেন যে, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পৌরসভা কাজ করছে। কিন্তু তারপরও রেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় নানা কায়দায় পৌর বাজার এলাকায় উচ্ছেদ পরিচালনা সংক্রান্ত মাইকিং করে দোকানদার ও পৌরবাসীকে বিভ্রান্ত করে আসছেন।

এরই ধারাবাহিতায় সম্প্রতি ২৫.৭৫ একর জমিতে কার কার দালানকোঠা আছে, তার বিল্ডিং প্লানের ম্যাপ দেখানোর জন্য পার্বতীপুর রেলওয়ে কানুনগো অফিসে জমা দেয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। যা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের চরম অনধিকার চর্চা। তাই আমরা এর প্রতিবাদে পাল্টা মাইকিং করে জনগনকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছি।

তিনি বলেন, কিন্তু রেলওয়ের এধরনের কর্মকাণ্ড অযাচিত ও অনভিপ্রেত। তাদের এমন হয়রানী বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তাই এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিষয়টি সমাধানে রেলমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। যা রেলওয়ের পাকশী কার্যালয়ে