রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় স্থল মিয়ানমারে ফিরেছে অর্ধশত পরিবার

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় স্থল মিয়ানমারে ফিরেছে অর্ধশত পরিবার
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।। কক্সবাজার, ১৮ মে।। বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপরে কোন অত্যাচার নির্যাতন করছে না ভেবে অসংখ্য রোহিঙ্গা পরিবার ইতোমধ্যে কক্সবাজারে বিভিন্ন ক্যাম্প ও শরনার্থী শিবির থেকে তাদের নিজস্ব বসতভিটা মিয়ানমারে ফিরে যাচ্ছে। 

চলতি মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রায় ৫০ টিরও বেশি রোহিঙ্গা পরিবার বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার নিরাপদে চলে গেছেন এবং তারা সেখানে বাপ-দাদার নিজস্ব ভিটা বাড়িতে আরাম আয়েশের সাথে বসবাস করছেন বলে একাধিক সুত্রে প্রকাশ। 
একটি গোয়েন্দা সংস্থা সুত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১৬ মে রাত ১০ টায় উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্প-১৬ (শফিউল্লাহ কাটা) ব্লক-এ/৪ এর রোহিঙ্গা মো. আয়ুব তার পরিবারের ৩ সদস্যকে সাথে নিয়ে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মিয়ানমার চলে গেছেন।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারে কার্যালয় থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 
জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্টে সামরিক জান্তার নির্যাতন ও প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা অন্তত ১১ লাখ রোহিঙ্গা পরিবার পরিজন নিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে পালিয়ে আসে।
তারা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প ও শরনার্থী শিবিরে বসবাস করে আসছিল ।
বিভিন্ন ক্যাম্প ও রোহিঙ্গা শিবির থেকে নোয়াখালীর ভাসাচরেও স্থানান্তর করা হয় ১০ হাজার রোহিঙ্গা। ভাসানচরে বর্তমানে বসবাস করছে ১০ সহস্রাধিক রোহিঙ্গা ।
সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প মাঝিদের সুত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা হলেন, মোঃ আয়ুব (৩৬), পিতা-হাফিজুর রহমান, ঘর-৫৮৪, ব্লক-এ/৪
ক্যাম্প-১৬, সদস্য-৪ জন।
এছাড়াও আরো অসংখ্য রোহিঙ্গা পরিবার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ১ মে মিয়ানমারে চলে গেছেন,ইলিয়াছ (৪২),পিতা-শরীফ হোসেন, এফসিএন-১১৩৮৩০
ব্লক-সি/৯, ক্যাম্প-৯ সদস্য সংখ্যা-৮ জন।
আব্দুর রহমান (২৫), পিতা-কালা মিয়া, ব্লক-সি/৯, ক্যাম্প-৯, সদস্য-৪ জন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাঝিদের সুত্রে আরও জানা গেছে, ১ মে রাত ১১ টার দিকে উখিয়স পালংখালিস্থ রো‌হিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প-১৬ (শফিউল্লাহ কাটা) তে বসবাসরত একটি রোহিঙ্গা শরনার্থী পরিবারের ৯ সদস্য যথাক্রমে- কামাল মোস্তফা (৪০), পিতা- অজ্ঞাত,
ব্লক-এ/১ ঘর-৯৭৫, এফসিএন-২৪৬৭০৯, আয়শা খাতুন (৩৬)।
তাদের ছেলে ও মেয়েরা হলো- মোস্তফা শেখ (১৪), মোস্তফা আলিমা (১২), মোস্তফা সৈয়দুল (৮), রাজ্জাক (৫), মোস্তফা সালেক (৪), আব্দুল্লাহ শেখ (২)
ও শহিদুল মোস্তফা (৮ মাস)।
গত ৭ মে রাতে ক্যাম্প থে‌কে পা‌লি‌য়ে মিয়ানমার চ‌লে যাওয়া রোহিঙ্গারা হলো-
আবদুর রহমান (৩৫),পিতা- কালা মিয়া, ব্লক-সি-১৩, ক্যাম্প-৯।
গত ৯ মে রাত ১২ টায় উখিয়া বালুখালী -১ রো‌হিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প-৯ এ বসবাসরত ৫ সদস্যে ১ টি রোহিঙ্গা শরনার্থী পরিবারসহ রাতে ক্যাম্প থে‌কে পা‌লি‌য়ে মিয়ানমার চ‌লে যায়। 
গত ১১ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যাম্প-১৪ (হাকিম পাড়া) ব্লকঃবি-১ এ রোহিঙ্গা অছিউল্লাহ (৫০) ও আয়েশা(৩০) ২টি পরিবার ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মিয়ানমার চলে যায়। তারা হলো-অছি উল্লাহ (৫০), পিতা-হোসাইন
ঘর-৩৯৬, এফসিএন-২১১৩৮০
ও আয়েশা বেগম (৩৫),পিতা-অছি উল্লাহ, ব্লকঃবি-১, ঘর-৩৯৭, এফসিএন-২১১৩৭৯, সদস্য সংখ্যা -৮ জন।
গত ২৪ মার্চ রাতে ক্যাম্প-১৬ শফি উল্লাহ কাটা থেকে সাবেক সি ব্লকের হেডমাঝি নুরল কবির নামে একজন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে চলে যায। সে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর থেকে আস্তে আস্তে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে শুরু করেছে। 
প্রসংগত, মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু হলে পরের কয়েক মাসে অন্তত আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এর আগে আসেন আরও কয়েক লাখ। 
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারে কার্যালয় সুত্র মতে, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প ও শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ।