রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশী নকল এনআইডি কার্ড তৈরি চক্রের ৫ সদস্য আটক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশী নকল এনআইডি কার্ড তৈরি চক্রের ৫ সদস্য আটক
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার,২১ জুলাই।। কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে নকল বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড তৈরিতে একাধিক চক্র জড়িত রয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা জালিয়াত চক্রই রোহিঙ্গাদেরকে নকল বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড তৈরি করে দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এধরনের দেশদ্রোহী কাজে সক্রিয় রয়েছে চক্র 

গুলো।  উখিয়া লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে ২০ জুলাই বুধবার বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী নকল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সরঞ্জামসহ এমন জালিয়াত চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা  ক্যাম্প-১/ ব্লক-ডাব্লিউ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।আটককৃতরা সকলেই রোহিঙ্গা শরনার্থী বলে জানান এপিবিএন।
উখিয়া ৮ এপিবিএন এর কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক চক্র রোহিঙ্গাদের জন্য নকল বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এপিবিএন সদস্যরা অভিযান চালিয়ে লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোঃ আবদুল্লাহর বসতবাড়ী থেকে বিপুল পরিমাণ নকল বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র, নকল জন্ম নিবন্ধন সনদ, নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স, নকল এনআইডি তৈরীর কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, পেনড্রাইভ, বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি জব্দ করা হয়।
এসময় আটক করা হয় জালিয়াত চক্রের সদস্য মোঃ আবদুল্লাহ, আবুল খায়ের, মোঃ ইসমাইল, মোঃ ত্বালহা ও মোঃ হারুন।
আটককৃতরা সকলেই রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে, ৪ টি ল্যাপটপ, ৮ টি স্মার্টফোন,৪ টি পেনড্রাইভ,২ টি স্ক্যানার মেশিনসহ প্রিন্টার, ২৮ টি অনলাইন ডুপ্লিকেট জন্ম নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন, ১১ টি জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই, ৩০ টি ডুপ্লিকেট জন্মসনদ,২০ টি ডুপ্লিকেট এনআইডি, ২০০ টি বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডির ফটোকপি, বাংলাদেশী সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের চেক বই ও জমা স্লিপের বই, ৫টি সিল, ১ টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন সনদ পত্র, ২০ টি শাহপুরি বাস্তহারা আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্য ফরম, ৩৫ টি টাকা জমা দেয়ার পাশ বই,৮ টি ৪ নং রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স, যার প্রত্যেকটিতে মোঃ আবদুল্লাহ নামে লিপিবদ্ধ, উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের জাতীয়তা সনদ সহ আরো বিভিন্ন নামের ৪টি জাতীয়তা সনদ, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিহীন সনদ ৫ টি, আবদুল্লাহ নামের ইলেকট্রিক বিলের কাগজপত্র, বিভিন্ন ধরণের জমির দলিল ও খতিয়ান, মোঃ ইসমাইলের জন্ম সনদ ও এনআইডি কার্ড, মোঃ ত্বালহা এর সিটি কর্পোরেশনের জাতীয় সনদ, জন্ম সনদ এনআইডি (নকল) ও মোঃ হারুন এর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
এপিবিএন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে নকল বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে বলে স্বীকার করেন। সাধারণ রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং বিদেশে গমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরির লক্ষ্যে উক্ত দালাল চক্রকে মোটা অংকের টাকা প্রদান করে বলেও জানান এপিবিএন।