রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৯ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ লাখ ইয়াবা উদ্ধার : গ্রেফতার-১৪৭৯

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৯ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ লাখ ইয়াবা উদ্ধার : গ্রেফতার-১৪৭৯

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, 20 এপ্রিল।। কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে অপরাধের সাথে জড়িত আরসা সদস্য সহ ১৪৭৯ জন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গত এক বছরে শুধু ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের হাতে এসব সন্ত্রাসী গ্রেফতার হন। এসময় ১৯ টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোটবাজারস্থ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো: নাঈমুল হক পিপিএম এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক, চোরাচালান, কালোবাজারি, অস্ত্র পাচার রোধ এবং রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারেও ক্যাম্প এবিপিএন পুলিশ সতর্ক রয়েছেন। এসপি নাইমুল হক বলেন, ক্যাম্প অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬ পিস ইয়াবা, ৪২ কেজি ২৮৯ গ্রাম গাঁজা,৭৫১ মিনিক্যান বিদেশী বিয়ার,দেশীয় তৈরী ৫ বোতল মদ, বিদেশী ৬৭৫৪ মিলি লিটার তরল মদ। এছাড়াও অভিযানে ৩ টি বিদেশী অস্ত্রসহ ১৯টি দেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ২১৯টি বিভিন্ন প্রকারের দেশীয় অস্ত্র ১৫ টি ম্যাগজিন ও ৩২ টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এও বলেন, ১৪ এপিবিএন ও ক্যাম্প ইনচার্জদের সহযোগিতায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত গ্রেফতার করা ১২৭ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এপিবিএন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত বছরের ১৯ জুন ৩টি স্বর্ণের বার সহ ৮০৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার,২৬ লাখ ৩ হাজার ১২০ নগদ টাকা,৩১লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ মিয়ানমার (মুদ্রা) কিয়াত উদ্ধার করা হয়।

এসংক্রান্তে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাও দায়ের করা হয় থানায়। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া আজিজুল হকসহ জড়িত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন। এরমধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। গত বছরের ২২ অক্টোবর ৮ এপিবিএন’র আওতাধীন ১৮ নং ক্যাম্পে দারুল উলুম নাদাওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ৬ খুনের ঘটনায় জড়িত আরাফাত উল্লাহকে ঘটনা সংগঠিত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ১৪ এপিবিএন পুলিশের বিশেষ অভিযানিক দল। ধৃত আরাফাত ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। অপরদিকে, গত ১৬ জানুয়ারী ১৪ এপিবিএন পুলিশের বিশেষ অভিযানিক দল ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে কথিত আরসার শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনীর সৎভাই শাহ আলীকে গ্রেফতার করেন। এসময় শাহ আলীর নিকট থেকে অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএম আনোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন, সাধারণ সম্পাদক রতন দে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ , অন লাইন প্রেস ক্লাব সভাপতি শফিক আজাদ, সাধারণ সম্পাদক পলাশ বড়ুয়া ও রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি শরীফ আজাদ। মতবিনিয় সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন, ১৪ এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরীফুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুূদ আনোয়ার,পীযুষ চন্দ্র দাশ, সহকারী পুলিশ সুপার ও ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ ইমরানুল হক মারুফ, হাসান মাহমুদ, শাকিল আহমেদ, সুব্রত কুমার সাহা, ফরমান আলী উপস্থিত ছিলেন। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।