রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে চিরুনি অভিযানে ৪১ অপরাধী গ্রেফতার

রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে চিরুনি অভিযানে ৪১ অপরাধী গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, ২৯ অক্টোবর।। কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, গ্রুপে-গ্রুপে গোলাগুলি, আধিপত্য বিস্তার, মাদক, অস্ত্রসহ নানা সহিংসতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ক্যাম্পকে নিরাপদ রাখতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দিনগত রাতের ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন এবং জেলা পুলিশের অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চলাকালে একাধিক অ্যাডিশনাল এসপি, এএসপি ও পুলিশ পরিদর্শক নেতৃত্ব দিয়েছেন।
চিরুনী অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হত্যা মামলার আসামি ৬ জন ও মাদকসহ ৩ জন। অন্যান্য মামলার আসামি ছিল ৪ জন ও 
বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত ২৮ জন।
চিরুনি অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ক্যাম্প-১৮ ব্লক-এল/১৮ এর মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সৈয়দ আলম (৫৫), ব্লক- এল/১৭ এর মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে জুনায়েদ (২৫), আবু তালেবের ছেলে মছন আলী (২০), ক্যাম্প-১৯ ব্লক-সি/৭ এর মৃত মোস্তাক আহম্মদের ছেলে মো. ওসমান (৩৪), ক্যাম্প-১৩ ব্লক- ডি/৩ এর জাহিদ হোসাইনের ছেলে মো. তাহের ওরফে লালা ফুতিয়া (২৫), ব্লক-এফ/৩ এর মৃত আমির হামজার ছেলে শোয়াইব (২৫)। এরা সবাই হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী।

মাদকসহ গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ক্যাম্প-১৩ ব্লক- জি/২ এর মৃত নুর আহম্মদের ছেলে দিল হোসাইন (৪৪), ব্লক- ই/৪ এর মৃত কবির আহম্মদের ছেলে মোহাম্মদ জোবায়ের (৩৯) ও ক্যাম্প-১৮ ব্লক-এইচ/৬২ এর মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে শফিউল্লাহ (৫৩)।
রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ এপিবিএন'র সহকারী পুলিশ সুপার (অপস্ এন্ড মিডিয়া) মো. ফারুক আহমেদ জানান, ক্যাম্প এলাকায় সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি বিবেচনায় অপরাধীদের গ্রেফতারে ২৮ অক্টোবর রাতে এপিবিএনের উদ্যোগে ও জেলা পুলিশ সদস্যদোর অংশগ্রহণে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। ক্যাম্প অভ্যন্তরে অভিযানের সময় কোন দুস্কৃতিকারী ক্যাম্পের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে ক্যাম্প সীমান্তে জেলা পুলিশ পর্যাপ্ত পুলিশ অফিসার ও ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল।
সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা শরনার্থী  ক্যাম্প এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দুষ্কৃতিকারী নির্মূল করার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ বাড়ায় উদ্বিগ্ন ক্যাম্পের আশপাশের লোকালয়ের বাসিন্দাসহ পুরো কক্সবাজার জেলাবাসী। 
উখিয়ার কুতুপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ক্যাম্প ভিত্তিক মাঝি (নেতা), সাব-মাঝি, স্বেচ্ছাসেবকদের খুন করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের অবস্থান ঘোষণা করে যাচ্ছে।