রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ৬ মাসে ৮৩৬ জন 'আরসা' সন্ত্রাসী আটক : ২০ টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার 

রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ৬ মাসে ৮৩৬ জন 'আরসা' সন্ত্রাসী আটক : ২০ টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার 
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, ২ আগষ্ট।। কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এপিবিএন সদস্যরা গত ৬ মাসে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ৮৩৬ জন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির ভাই শাহ আলী, আরসার গান কমান্ডার সৈয়দুল আমিন, ফতোয়া কমিটির চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ রয়েছে। এসময় তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ অন্তত ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। 

গত দুই সপ্তাহে মিয়ানমারের সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ফতোয়া কমিটির চেয়ারম্যান এবং সংগঠনটির একজন কমান্ডারসহ শীর্ষ তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন।
এদের মধ্যে গত রবিবার ভোরে উখিয়ার ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ড্রোন ক্যামেরার সাহায্য নিয়ে আরসা’র গান কমান্ডার সৈয়দুল আমিনকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া উখিয়ার বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার ওই ক্যাম্পের মাঝি  আবু বক্কর (৩৭) ওরফে জমির হোসেন ওরফে হাফেজ মনিরকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক ও ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
আটক সৈয়দুল আমিন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ক্যাম্প-৭) জি ব্লকের রোহিঙ্গা আমির হোসনের ছেলে।
এর আগে গত ৭ জুলাই আরসার ফতোয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদকে (৪৮) আটক করে ১৪ এপিবিএন। 
এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ছয়মাসে আরও প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।
রোহিঙ্গা নেতা মাষ্টার মুহিব উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ক্যাম্পগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এখন নিয়মিতভাবে বিশেষ করে ভোর রাতে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারির মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক মো. নাইমুল হক।


অধিনায়ক মো. নাইমুল হক জানান, নূর মোহাম্মদ ছিলেন কথিত আরসা’র  ফতোয়া কমিটির চেয়ারম্যান। রাতে আরসার সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতেন তিনি। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় মাওলানার বেশে চলতেন যাতে করে সহজে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। 
তিনি আরও বলেন, সৈয়দুল আমিন ছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৭ এর গান কমান্ডার এবং বিভিন্ন সময়ে সদস্যদের অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি।
নাইমুল আরও জানান,সৈয়দুল আমিনের কাছে জি-থ্রি রাইফেলের মত ভারী অস্ত্র রয়েছে এবং ইতোমধ্যে জি-থ্রি রাইফেলসহ সৈয়দুলের তোলা ছবিও উদ্ধার করা হয়েছে।
ড্রোন উড়িয়ে অবস্থান নিশ্চিত করে সৈয়দুল আমিনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে নাইমুল আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈয়দুল স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘ ছয় মাস তিনি মিয়ানমারের গহিন অরণ্যে তথাকথিত আরসা গ্রুপের তত্ত্বাবধানে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
নাইমুল আরও জানান, সম্প্রতি সৈয়দুল আমিন নাফ নদী অতিক্রম করে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন।
৮ এপিবিএন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন জানান, ২০২১ সালের অক্টোবর উখিয়া ময়নার ঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (ক্যাম্প-১৮) একটি মাদ্রাসা ও এর সংলগ্ন মসজিদে হামলা চালিয়ে ৬ রোহিঙ্গা শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে হত্যা এবং সম্প্রতি উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গা মাঝি আজিম উল্লাহকে হত্যার ঘটনায় আবু বক্কর জড়িত ছিলেন। 
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সৈয়দুল আমিন, আবু বক্কর ও নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন। ওই তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সৈয়দুল ও আবু বক্করকে (১ আগষ্ট) সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের জেলে পাঠান,ওসি জানান। 
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিগগিরই এই দুই জনের রিমান্ড চাওয়া হবে।